আজ ২০ অক্টোবর জাতীয় পরিসংখ্যান দিবস। দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়ন, জনসংখ্যা নিরূপণ, দারিদ্র্য বিমোচন, কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতের অগ্রগতি মূল্যায়ন এবং উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়নে নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যানের গুরুত্ব তুলে ধরতে দিবসটি পালিত হচ্ছে।
সরকারি নীতি ও পরিকল্পনা প্রণয়ন থেকে শুরু করে বাজেট নির্ধারণ, সম্পদের সুষম বণ্টন এবং উন্নয়ন প্রকল্পের কার্যকারিতা মূল্যায়ন প্রতিটি ক্ষেত্রেই সঠিক পরিসংখ্যান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তথ্যের ঘাটতি বা ভুল পরিসংখ্যানের কারণে বাস্তব পরিস্থিতি অনুধাবন এবং কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণ ব্যাহত হতে পারে।
বাংলাদেশে সরকারি পরিসংখ্যান সংগ্রহ, সংকলন ও প্রকাশের প্রধান দায়িত্ব পালন করে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)। জনশুমারি, কৃষিশুমারি, অর্থনৈতিক শুমারি, শ্রমশক্তি জরিপ, মূল্যস্ফীতি, মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) এবং দারিদ্র্যসংক্রান্ত তথ্যসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সূচক প্রকাশ করে সংস্থাটি।
তবে পরিসংখ্যানের গুরুত্ব কেবল তথ্য প্রকাশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এসব তথ্য কতটা নির্ভুল, সময়োপযোগী, স্বচ্ছ ও জনসাধারণের জন্য সহজলভ্য , তার ওপরও নীতিনির্ধারণের কার্যকারিতা নির্ভর করে। বিশেষ করে বেকারত্ব, দারিদ্র্য, আয়বৈষম্য, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের বাস্তব অবস্থা তুলে ধরতে নিয়মিত ও মানসম্মত তথ্য সংগ্রহ প্রয়োজন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি পরিসংখ্যানের বিশ্বাসযোগ্যতা নিশ্চিত করতে তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণে পেশাগত স্বাধীনতা, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহি বজায় রাখা জরুরি। রাজনৈতিক বা প্রাতিষ্ঠানিক প্রভাবের ঊর্ধ্বে থেকে তথ্য প্রকাশ করা গেলে সরকার, গবেষক, গণমাধ্যম, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।
পরিসংখ্যানের যথাযথ ব্যবহার টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনের অগ্রগতি পরিমাপেও গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে ডিজিটাল প্রযুক্তি, আধুনিক জরিপপদ্ধতি এবং তথ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়নের মাধ্যমে পরিসংখ্যান সংগ্রহ ও প্রকাশের কার্যকারিতা বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।
জাতীয় পরিসংখ্যান দিবসের মূল তাৎপর্য হলো উন্নয়ন পরিকল্পনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে অনুমাননির্ভরতার পরিবর্তে নির্ভরযোগ্য তথ্যের ব্যবহার নিশ্চিত করা। এ জন্য সরকারি সংস্থাগুলোর পাশাপাশি গবেষণা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম ও সাধারণ মানুষের মধ্যে পরিসংখ্যান বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন।
এফএস