পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসাসেবা। দিনে একাধিকবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন থাকে হাসপাতাল। বিকল্প হিসেবে জেনারেটরের ব্যবস্থা না থাকায় কোনো কোনো সময় টর্চ কিংবা মোবাইল ফোনের ফ্ল্যাশলাইটের আলোতেই রোগীদের চিকিৎসা দিতে হচ্ছে চিকিৎসক ও নার্সদের।
হাসপাতাল সংশ্লিষ্টরা জানান, বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময় হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। হাসপাতালে জেনারেটর না থাকায় বিদ্যুৎ চলে গেলে চিকিৎসক, রোগী ও স্বজনদের জন্য কার্যকর কোনো বিকল্প ব্যবস্থা থাকে না।
সরেজমিনে দেখা যায়, দিনে অন্তত পাঁচ থেকে সাতবার হাসপাতালে বিদ্যুৎ চলে যায়। একবার বিদ্যুৎ গেলে তা এক ঘণ্টা পর আসে। বিদ্যুৎ বিহীন সময় হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হয়। পাশাপাশি রোগী ও স্বজনদের গরমে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হয়। সকাল ৮টা থেকে হাসপাতালের বহির্বিভাগে রোগী ও স্বজনদের দীর্ঘলাইন শুরু হয়। মাঝে মধ্যেই বিদ্যুৎ না থাকায় চিকিৎসকরা অন্ধকারাচ্ছন্ন পরিবেশে রোগী দেখে ব্যবস্থাপত্র দিতে পারেন না। ফলে অপেক্ষমাণ রোগী ও স্বজনদের দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়। পাশাপাশি রোগীদের ওয়ার্ডে বিদ্যুৎ না থাকায় চিকিৎসক ও নার্সরা চিকিৎসা দিতে পারেন না। জরুরি প্রয়োজন হলে চিকিৎসক বা রোগীর স্বজনদের মোবাইলের ফ্ল্যাশলাইটের আলো ব্যবহার করে চিকিৎসাসেবা দিতে হয়।
ঈশ্বরদীর ৫০ শয্যাবিশিষ্ট এই হাসপাতালে এমনিতেই রয়েছে রোগীর প্রচণ্ড চাপ। প্রতিদিন বহির্বিভাগে ৬০০ থেকে ৭০০ এবং জরুরি বিভাগে ২০০ থেকে ২৫০ রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া হয়। ৫০ শয্যার হাসপাতাল হলেও প্রায়ই ৭০ থেকে ৮০ জন রোগী ভর্তি থাকেন। ফলে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সঙ্গে অতিরিক্ত রোগীর চাপ যুক্ত হয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রোগীর স্বজন আসাদুল ইসলাম জানান, তিন দিন ধরে এ হাসপাতালে রোগী নিয়ে আছি। মাঝে মধ্যেই বিদ্যুৎ থাকে না। বিদ্যুৎহীন সময়ে গরমে রোগীদের দুঃসহ কষ্ট সইতে হয়। আর রাতে বিদ্যুৎ না থাকলে অন্ধকারের মধ্যেই রোগীদের থাকতে হয়। এসময় রোগীদের চিকিৎসা ও সেবা দিতে পারেন না চিকিৎসক ও নার্সরা।
নাসিমা খাতুন নামে আরেক স্বজন জানান, বিদ্যুৎ না থাকলে প্রচণ্ড গরমে সুস্থ মানুষেরও হাসপাতালে থাকা কষ্টকর হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় অসুস্থ বা রোগীরা কীভাবে থাকবে? মাঝেমধ্যে বিদ্যুৎ চলে গেলে রোগীদের খুব কষ্ট হয়। হাসপাতালে জরুরি ভিত্তিতে জেনারেটর বা বিদ্যুতের বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার।
ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার-পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শোভন পাল বলেন, হাসপাতালে প্রতিদিন বহির্বিভাগে ৬০০ থেকে ৭০০ এবং জরুরি বিভাগে ২০০ থেকে ২৫০ জন রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া হয়। মাঝে মধ্যেই হাসপাতালে বিদ্যুৎ থাকে না। ফলে রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিতে সমস্যা হয়। হাসপাতালে জরুরি বিভাগে আইপিএসের মাধ্যমে চিকিৎসা সেবা দেওয়ার সুযোগ থাকলেও রোগীদের ওয়ার্ডসহ অন্যান্য স্থানে বিদ্যুতের বিকল্প কোনো ব্যবস্থা নেই।