মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর শাখায় প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে গ্রাহকের ৮ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে অগ্রণী ব্যাংক পিএলসির কর্মকর্তা ও গার্ডসহ ৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
বৃহস্পতিবার (০৮ অক্টোবর) দুদক সূত্রে এতথ্য নিশ্চিত করেছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, শ্রীনগর শাখার বর্তমানে সাময়িক বরখাস্তকৃত অফিসার (ক্যাশ) মো. জিন্নাহ হোসেন, সাবেক ম্যানেজার ও সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার রেজাউল হক, সাবেক ম্যানেজার ও প্রিন্সিপাল অফিসার মো. শরীফ উদ্দীন, সিকিউরিটি গার্ড রজু আহম্মেদ এবং সাময়িক বরখাস্তকৃত সিকিউরিটি গার্ড আব্দুল হাই।
এর আগে জালিয়াতির একই ঘটনায় জড়িত সাময়িক বরখাস্তকৃত অফিসার (ক্যাশ) মো. শরীফুজ্জামানকে গত ৪ অক্টোবর আইনের আওতায় এনে শোন অ্যারেস্ট দেখায় দুদক।
দুদক সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা পরস্পর যোগসাজশে অতিরিক্ত সুদের লোভ দেখিয়ে ভুয়া এফডিআর তৈরি, চেক জালিয়াতি, ভুয়া ডিপোজিট স্লিপ প্রদান এবং অ্যাকাউন্টের তথ্য পরিবর্তনের মাধ্যমে গ্রাহকদের বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেন।
অভিযোগের ভিত্তিতে দুদক প্রধান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক (ব্যাংক) মাহাথীর মুহাম্মদ সামীর নেতৃত্বে এবং উপসহকারী পরিচালক (ব্যাংক) মো. রবিউল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত একটি অনুসন্ধান টিম শ্রীনগর থানা পুলিশের সহযোগিতায় গত ৭ অক্টোবর ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে অভিযান চালায় এবং ৫ জনকে গ্রেপ্তার করে।
দুদকের অনুসন্ধান টিম বর্তমানে ঘটনাস্থলে অবস্থান করে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের বক্তব্য গ্রহণ করছে। এ পর্যন্ত ৯১ জন ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকের জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে, যাতে ৮ কোটি ১৪ লাখ ৮০ হাজার ৮২৬ টাকা আত্মসাতের সত্যতা প্রাথমিক অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।
প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকের সংখ্যা ২০০ বেশি হতে পারে।
দুদক জানায়, অনুসন্ধান কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়া মাত্রই জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুততম সময়ে নিয়মিত মামলা (এফআইআর) রুজু করা হবে।
টিআই