রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ক্যানোপি-২ এক্সিট গেটের বাইরে যাত্রীর স্বজন ও নিরাপত্তাকর্মীদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বেবিচকের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২১ সেপ্টেম্বর রাত ১২টা ৫২ মিনিটের দিকে ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পূর্ণ চিত্র পাওয়া গেছে সিসিটিভি ফুটেজে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া মুঠোফোনে ধারণ করা ভিডিওতে ঘটনার একটি অংশ দেখা গেলেও সিসিটিভি ফুটেজে ঘটনার শুরু থেকে পরবর্তী পরিস্থিতির ধারাবাহিক চিত্র উঠে এসেছে।
সিসিটিভি ফুটেজ অনুযায়ী, ওই সময় একজন আগমনী যাত্রী ক্যানোপি-২ দিয়ে বিমানবন্দর থেকে বের হচ্ছিলেন। তাকে গ্রহণ করতে আসা এক পুরুষ সহযাত্রী নির্ধারিত ক্যানোপি-২ এক্সিট গেট দিয়ে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করেন।
এ সময় গেটে দায়িত্ব পালনরত একজন আনসার সদস্য তাকে ভেতরে প্রবেশ না করার জন্য অনুরোধ করেন এবং বাধা দেন। তবে ওই ব্যক্তি একাধিকবার ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করলে আরেকজন আনসার সদস্যও এগিয়ে এসে তাকে নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেন।
একপর্যায়ে ওই ব্যক্তি ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে যান। এরপর তার সঙ্গে আসা অন্য কয়েকজন ব্যক্তি ঘটনাস্থলে এগিয়ে আসেন। এ সময় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং তাদের সঙ্গে দায়িত্ব পালনরত আনসার সদস্যদের ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
ঘটনার এ পর্যায়ের একটি অংশ সেখানে উপস্থিত এক ব্যক্তি মুঠোফোনে ধারণ করেন। পরে সেটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তবে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে ঘটনার আগের পরিস্থিতি দেখা যায়নি।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ঘটনার শুরুতেই ওই ব্যক্তিকে নির্ধারিত এক্সিট গেট দিয়ে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করতে দেখা যায়। নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্যরা তাকে একাধিকবার বাধা দেন এবং বাইরে থাকার অনুরোধ করেন। পরে তিনি ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে গেলে ঘটনাস্থলে থাকা অন্য ব্যক্তিরা এগিয়ে আসেন। এরপরই পরিস্থিতির অবনতি ঘটে এবং ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যাত্রীকে গ্রহণ করতে আসা স্বজন ও দর্শনার্থীদের বিমানবন্দরের নিরাপত্তা প্রটোকল এবং নির্ধারিত প্রবেশ ও বহির্গমন ব্যবস্থা যথাযথ মেনে চলা প্রয়োজন। আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখা শুধু নিরাপত্তাকর্মীদের দায়িত্ব নয়; যাত্রী, স্বজন, দর্শনার্থীসহ সংশ্লিষ্ট সবারও এতে দায়িত্ব রয়েছে।
কর্তৃপক্ষ আরও বলেছে, কোনো ঘটনার আংশিক ভিডিও দেখে পুরো প্রেক্ষাপট না জেনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য, গুজব বা অনুমাননির্ভর বক্তব্য ছড়িয়ে দেওয়া উচিত নয়। কোনো ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তথ্য যাচাই করে তা প্রচার করা দায়িত্বশীল নাগরিক আচরণের অংশ।