সমুদ্রের গভীরে বসবাসকারী রহস্যময় ও বুদ্ধিমান প্রাণীদের মধ্যে অন্যতম অক্টোপাস। আটটি বাহু, তিনটি হৃদ্যন্ত্র, অসাধারণ ছদ্মবেশ ধারণের ক্ষমতা এবং জটিল পরিস্থিতিতে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতার কারণে প্রাণীজগতে অক্টোপাসের রয়েছে বিশেষ বৈশিষ্ট্য। প্রতিবছর ৮ অক্টোবর পালিত হয় বিশ্ব অক্টোপাস দিবস। সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য ও এই বিস্ময়কর প্রাণী সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরিই দিবসটির অন্যতম উদ্দেশ্য।
অক্টোপাস মূলত সামুদ্রিক অমেরুদণ্ডী প্রাণী। পৃথিবীর বিভিন্ন সাগর ও মহাসাগরে এর বহু প্রজাতির দেখা মেলে। প্রজাতিভেদে এদের আকার ও রঙে রয়েছে ব্যাপক বৈচিত্র্য। শিকারি বা বিপদের মুখে পড়লে শরীরের রং ও ত্বকের গঠন বদলে পরিবেশের সঙ্গে মিশে যেতে পারে অক্টোপাস। এ কারণে অনেক সময় শিকারি প্রাণীর চোখ এড়িয়ে যেতে সক্ষম হয় তারা।
অক্টোপাসের সবচেয়ে বিস্ময়কর বৈশিষ্ট্যগুলোর একটি হলো এর তিনটি হৃদ্যন্ত্র। দুটি হৃদ্যন্ত্র ফুলকার দিকে রক্ত পাঠায়, আর অন্যটি শরীরের বিভিন্ন অংশে রক্ত সঞ্চালন করে। তাদের রক্ত মানুষের মতো লাল নয়; অক্টোপাসের রক্তে তামাভিত্তিক হিমোসায়ানিন থাকায় তা নীলচে রঙের।
শুধু শারীরিক বৈশিষ্ট্য নয়, বুদ্ধিমত্তার কারণেও অক্টোপাস বিজ্ঞানীদের কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয়। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, তারা সমস্যার সমাধান করতে পারে, জটিল পরিস্থিতিতে নিজেদের মানিয়ে নিতে পারে এবং কিছু ক্ষেত্রে স্মৃতিশক্তিরও পরিচয় দেয়। খাবার সংগ্রহ ও শিকার ধরতে তারা তাদের বাহুগুলো অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে ব্যবহার করে।
অক্টোপাসের শরীরে শক্ত কোনো হাড় নেই। ফলে তারা খুব সরু ফাঁক দিয়েও শরীর গলিয়ে বেরিয়ে যেতে পারে। বিপদের সময় কালি ছুড়ে শিকারির দৃষ্টিকে বিভ্রান্ত করাও তাদের আত্মরক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশল।
সামুদ্রিক খাদ্যশৃঙ্খলেও অক্টোপাসের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তারা বিভিন্ন ছোট সামুদ্রিক প্রাণী শিকার করে এবং একই সঙ্গে নিজেরাও বড় সামুদ্রিক প্রাণীর খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ফলে সমুদ্রের বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য রক্ষায় তাদের ভূমিকা রয়েছে।
তবে সমুদ্রদূষণ, জলবায়ু পরিবর্তন, আবাসস্থলের পরিবর্তন এবং অতিরিক্ত আহরণসহ নানা কারণে সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ছে। ফলে অক্টোপাসসহ সামুদ্রিক প্রাণীদের আবাসস্থল রক্ষা ও সমুদ্রের পরিবেশ সংরক্ষণ এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
বিশ্ব অক্টোপাস দিবস শুধু একটি বিস্ময়কর প্রাণীকে জানার দিন নয়; এটি সমুদ্রের বিশাল জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তার কথাও মনে করিয়ে দেয়। সমুদ্রকে সুস্থ রাখা গেলে অক্টোপাসের মতো অসংখ্য অনন্য প্রাণীর অস্তিত্বও সুরক্ষিত থাকবে।
এফএস