শারদীয় দুর্গোৎসবকে ঘিরে সাতক্ষীরার কলারোয়ায় লেগেছে আনন্দের আমেজ। প্রতিবারের মতো এবারও ব্যতিক্রমী ও সৃজনশীল প্রতিমা তৈরি করে দর্শনার্থীদের নজর কাড়ছে কলারোয়ার উত্তর মুরারিকাটি পালপাড়া সর্বজনীন দুর্গাপূজা মণ্ডপ। দেশীয় খাদ্যশস্য ও ঐতিহ্যবাহী উপকরণের মেলবন্ধনে এবারের দুর্গোৎসবে এই মণ্ডপের মূল আকর্ষণ—সম্পূর্ণ ‘সাদা তিল’ দিয়ে সাজানো দেবী দুর্গার প্রতিমা।
প্রতিমা তৈরিতে নিত্যনতুন উদ্ভাবন ও শৈল্পিক ছোঁয়া দেওয়ার ক্ষেত্রে কলারোয়ার পালপাড়া মণ্ডপের সুনাম বহু পুরোনো। ২০২৩ সালে চিনিগুঁড়া ধান এবং গত বছর পাটের আঁশ দিয়ে প্রতিমা তৈরি করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল এই পূজা কমিটি। এরই ধারাবাহিকতায় এবার প্রতিমা সাজাতে ব্যবহার করা হয়েছে দেশীয় খাদ্যশস্য সাদা তিল।
মণ্ডপের দুর্গা, লক্ষ্মী, সরস্বতী, গণেশ, কার্তিক, অসুর ও মহিষাসুরসহ মোট ১৬টি প্রতিমার গায়ে বিশেষ প্রক্রিয়ায় বসানো হয়েছে পরিষ্কার সাদা তিলের আবরণ। পুরো পূজামণ্ডপের প্রতিমা তৈরিতে প্রায় ২৫ কেজি সাদা তিল ব্যবহার করা হয়েছে।
খুলনার পাইকগাছার কপিলমুনির প্রখ্যাত প্রতিমাশিল্পী ও ভাস্কর বাবু প্রহ্লাদ বিশ্বাস এবং তাঁর চার সহকর্মী টানা ১৫ দিন দিন-রাত পরিশ্রম করে এই দৃষ্টিনন্দন প্রতিমা তৈরি করছেন।
শিল্পী প্রহ্লাদ বিশ্বাস জানান, “প্রতিমা নির্মাণের কাজ আগেই সম্পন্ন হয়েছে। এখন হাতের তালুতে আঠা নিয়ে অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও নিখুঁতভাবে প্রতিমার গায়ে সাদা তিল বসানোর কাজ চলছে। তিল বসানোর কাজটি খুবই কঠিন ও ধৈর্যসাধ্য। তিল বসানো ও রঙের কাজ শেষ হতে আরও একদিন সময় লাগবে।”
ব্যতিক্রমী এই সৃজনকর্ম এবং তিলের আবরণে মোড়ানো প্রতিমার রূপ সচক্ষে দেখতে প্রতিদিন উত্তর মুরারিকাটি পালপাড়া মণ্ডপে ভিড় জমাচ্ছেন বিভিন্ন এলাকার ভক্ত ও দর্শনার্থীরা।
পূজামণ্ডপ কমিটির কোষাধ্যক্ষ অশিষ পাল জানান, “আমরা প্রতিবারই নতুন কিছু করে দেখানোর চেষ্টা করি। কমিটির সবার আলোচনার মাধ্যমেই এবার সাদা তিলের এই বিশেষ প্রতিমা গড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এবার বাজেট প্রায় ৫ লাখ টাকার বেশি।”
কমিটির সদস্য ও শিক্ষক দিলিপ পাল বলেন, “গত বছরগুলোর চিনিগুঁড়া ধান ও পাটের আঁশের প্রতিমা দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশেও প্রশংসা কুড়িয়েছিল। আমাদের বিশ্বাস, কৃষি ও বাংলার ঐতিহ্যকে তুলে ধরা সাদা তিলে সাজানো এই প্রতিমাও এবার সব মহলে প্রশংসিত হবে।”
কলারোয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফুল ইসলাম জানান, এ বছর কলারোয়া উপজেলার ৪৬টি পূজামণ্ডপে অত্যন্ত আনন্দ ও উদ্দীপনার সঙ্গে দুর্গোৎসব উদযাপিত হচ্ছে। শান্তি ও শুভবার্তা ছড়িয়ে দিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি নিশ্চিত করা হয়েছে।
জেডএ/আরএন