রাজধানীর বিভিন্ন বারে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। অভিযানে কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির কর্মকর্তারা।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের লালমাটিয়া এলাকায় 'কয়লা' বারে অভিযান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন ঢাকা মেট্রো কার্যালয় (উত্তর)-এর উপ-পরিচালক মো. রাজিউর রহমান।
তিনি বলেন, স্বাভাবিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ঢাকা শহরের বিভিন্ন বারে একযোগে চারটি টিম অভিযান পরিচালনা করছে। মিরপুর, ডেমরা ও খিলগাঁওসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চলছে।
তিনি বলেন, আমরা চারটি বারে অভিযান করেছি। এর মধ্যে ফুয়াং ক্লাব, রুচিতা, ব্লেজার ক্লাউস ও কয়লায় অভিযান চালানো হয়েছে। অভিযানে যা পাওয়া গেছে তা আগামীকাল বিশ্লেষণ করা হবে। এরপর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযানে কাউকে আটক বা কোনো কিছু জব্দ করা হয়েছে কি না জানতে চাইলে রাজিউর রহমান বলেন, ব্লেজার ক্লাউসে যাওয়ার পর কিছু মানুষ হুড়োহুড়ি করে পালিয়ে গেছে। সেখানে কিছু অনিয়মও চোখে পড়েছে। রুচিতায় কয়েকজনকে পারমিট ছাড়া পাওয়া গেছে। তবে তাদের খাতাপত্র ও স্টক মোটামুটি ঠিক পাওয়া গেছে।
পারমিট ছাড়া পাওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে তাদের সতর্ক করা হয়েছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ১৫(১) ধারা অনুযায়ী তাদের শোকজ করা হবে। পরবর্তীতে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রাত হওয়ায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনার ক্ষেত্রে কিছুটা সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
বারগুলোতে পারমিট ছাড়া মদ বিক্রয়ের অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, অনেকের কাছ থেকে অভিযোগ শোনা গেছে যে বারগুলোতে পারমিট ছাড়াই দেদারসে কার্যক্রম চলছে। তবে আজকের অভিযানে এ ধরনের বিষয় পরিলক্ষিত হয়নি। দু-একটি অনিয়ম পাওয়া গেছে। তাদের পরিদর্শন ও অভিযান সর্বত্র চলবে। পরবর্তীতে কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযানের খবর আগে থেকেই বার কর্তৃপক্ষ পেয়ে মাদক সরিয়ে ফেলে বা অতিথিদের বের করে দেয় কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত এমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। সর্বোচ্চ সততার সঙ্গে কাজ করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
রাজিউর রহমান বলেন, দায়িত্বে আসার পর সব বারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং নিয়ম অনুযায়ী কার্যক্রম পরিচালনার কথা বলেছেন। অধিকাংশ জায়গায় কিছুটা হলেও পরিবর্তন এসেছে। এসব পরিবর্তন যেন পূর্ণাঙ্গ রূপ পায়, সে জন্যই অভিযান চালানো হচ্ছে।
একটি কয়লা বারের বৈধ লাইসেন্স প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানটির মূল অবস্থান ছিল তেজগাঁও লিংক রোড এলাকায়। কিছু সীমাবদ্ধতার কারণে তারা বারের এলাকা পরিবর্তন করেছে। ইতোমধ্যে এ বিষয়ে গেজেট হয়েছে। তারা নিয়মের মধ্যে আসবে। হাইকোর্টের অনুমতি নিয়ে এখানে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। যেহেতু হাইকোর্ট তাদের অনুমতি দিয়েছে, সে ক্ষেত্রে আমাদের আর কিছু বলার নেই। নিয়মের মধ্যে পরিচালনা করতে সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা করা হবে।
এসএ