রাজধানীর যানজট কমাতে সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে দূরপাল্লার বাসগুলো শিগগিরই কাঁচপুরে নির্মাণাধীন নতুন টার্মিনালে স্থানান্তর করা হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।
প্রাথমিকভাবে চট্টগ্রাম, সিলেট, কুমিল্লা ও নোয়াখালীসহ ১৬ জেলার বাস সেখানে নেওয়া হবে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) কাঁচপুর বাস টার্মিনালের নির্মাণকাজের অগ্রগতি সরেজমিনে পরিদর্শন শেষে তিনি এ কথা জানান। এ সময় নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নানসহ প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও প্রকৌশলীরা উপস্থিত ছিলেন।
ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে কাঁচপুরে অস্থায়ী শেড নির্মাণ করে দূরপাল্লার বাসগুলো সায়েদাবাদ থেকে সরিয়ে নেওয়া হবে। পরে সেখানে স্থায়ী অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে। কাঁচপুর থেকে সায়েদাবাদে যাতায়াতকারী যাত্রীদের সুবিধার্থে পরিবহন মালিকদের সঙ্গে আলোচনা করে বিশেষ ‘শাটল সার্ভিস’ চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে।
তিনি বলেন, দূরপাল্লার বাসগুলো রাজধানীর মূল শহরে প্রবেশ না করলে ঢাকার যানজট কমবে। পাশাপাশি গুলিস্তান বাস টার্মিনালও বুড়িগঙ্গার ওপারে সরিয়ে নেওয়ার জন্য জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
ডিএসসিসি জানিয়েছে, প্রায় ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে তিনটি প্যাকেজে কাঁচপুর টার্মিনালের নির্মাণকাজ চলছে। প্রকল্পের গড় অগ্রগতি প্রায় ৩০ শতাংশ। এর মধ্যে সীমানাপ্রাচীরের ৭৫ শতাংশ এবং অভ্যন্তরীণ প্ল্যাটফর্মের ২৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রাথমিক কাজ শেষ করে টার্মিনাল চালুর লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।
প্রায় ১২ একর জমির ওপর নির্মাণাধীন টার্মিনালে ৪০৫টি বাসের ধারণক্ষমতা, ৩৭৮টি বাস পার্কিং, ২২টি বাস বে ও পাঁচটি ওয়াশিং বে থাকবে। এছাড়া ৪০টি গাড়ি পার্কিং, ৪৮০ আসনের ওয়েটিং জোন, ১০৬টি টিকিট কাউন্টার এবং পুরুষ ও নারীদের জন্য পৃথক টয়লেটের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। নির্মাণকাজের গুণগত মান নিশ্চিত করে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও ঠিকাদারদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রশাসক।
এসএস