‘অকূটনৈতিক আচরণের’ অভিযোগে দক্ষিণ আফ্রিকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত লিও ব্রেন্ট বোজেলকে তৃতীয়বারের মতো তলব করেছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। দায়িত্ব নেওয়ার নয় মাসের মধ্যে তাকে তিনবার তলব করা হলো বলে মঙ্গলবার রয়টার্সকে জানিয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার সরকারের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা।
দক্ষিণ আফ্রিকার আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও সহযোগিতা বিভাগ (ডিরকো)-এর ওই কর্মকর্তা রাষ্ট্রদূতকে আনুষ্ঠানিকভাবে তলবের বিষয়টি নিশ্চিত করলেও ঠিক কী ধরনের আচরণের কারণে সর্বশেষ এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা জানাননি। কূটনৈতিক ভাষায় একে ‘ডিমার্চ’ বলা হয়, যা এক সরকারের পক্ষ থেকে অন্য সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানানোর একটি পদ্ধতি।
এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে মার্কিন দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিক কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর রয়টার্সের প্রশ্ন পাওয়ার কথা নিশ্চিত করে পরে জবাব দেওয়ার কথা জানিয়েছে।
দুই দেশের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক বিষয়ে টানাপোড়েন চলছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দক্ষিণ আফ্রিকায় শ্বেতাঙ্গদের বিরুদ্ধে পদ্ধতিগত নিপীড়নের অভিযোগ করে আসছেন। প্রিটোরিয়া এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। দেশটির সরকারি নীতিগুলোর বড় একটি অংশ বর্ণবাদের সময়ের বৈষম্য মোকাবিলার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে বলে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।
ট্রাম্পের প্রতিনিধি হিসেবে গত ফেব্রুয়ারিতে প্রিটোরিয়ায় দায়িত্ব নেন রক্ষণশীল অ্যাক্টিভিস্ট ও লেখক বোজেল। দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তাকে প্রথমবার তলব করা হয়। সে সময় ডিরকো বলেছিল, তার মন্তব্য দক্ষিণ আফ্রিকার বিচারব্যবস্থা ও ঐতিহাসিক বাস্তবতাকে ক্ষুণ্ন করেছে।
সম্প্রতি স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বোজেল বলেন, ওয়াশিংটনের উদ্বেগগুলো যথাযথভাবে সমাধান করতে পারেনি প্রিটোরিয়া। এর ফলে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আরও চাপ আসতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। এর দুই সপ্তাহ আগে দক্ষিণ আফ্রিকার কয়েকজন নাগরিকের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র।
তবে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের অমীমাংসিত বিষয়গুলো আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে দক্ষিণ আফ্রিকা আগ্রহী বলে জানিয়েছেন ডিরকোর ওই কর্মকর্তা। একই সঙ্গে দেশের সার্বভৌমত্ব এবং ঐতিহাসিক অবিচার মোকাবিলার মতো অভ্যন্তরীণ অগ্রাধিকারের বিষয়ে কোনো আপস করা হবে না বলেও জানিয়েছে প্রিটোরিয়া।
এসএস