উন্নয়নকাজে অনিয়ম ও দুর্নীতি ঠেকাতে স্থানীয় পর্যায়ে কমিটি গঠন করে কাজের তদারকি করার আহ্বান জানিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
তিনি বলেন, কোনো এলাকায় উন্নয়নকাজ হলে নিজেদের স্বার্থেই স্থানীয় বাসিন্দাদের কাজের মান ও অগ্রগতি তদারকি করতে হবে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সিলেট নগরের কানশাইলে সুরমা নদীর তীর প্রতিরক্ষা কাজের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, কোনো এলাকায় উন্নয়নকাজ হলে নিজেদের স্বার্থেই স্থানীয় বাসিন্দাদের কাজের মান ও অগ্রগতি তদারকি করতে হবে। সরকারি উন্নয়নকাজে বিভিন্ন ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ও দুর্নীতির অভিযোগ শোনা যায়। এসব ঠেকাতে স্থানীয় পর্যায়ে কমিটি গঠন করে উন্নয়নকাজের তদারকি করা যেতে পারে। ওই কমিটিতে মসজিদের ইমাম, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, প্রকৌশলী ও এলাকার বিশিষ্ট নাগরিকদের রাখা যেতে পারে।
সিলেট শহর ও পার্শ্ববর্তী এলাকার স্থায়ী বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নদীভাঙন রোধ এবং সার্বিক নিরাপত্তায় সমন্বিত ও মেগা পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে জানিয়ে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, সুরমা নদী ও চেঙ্গার খালের ভাঙন প্রতিরোধে স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ তাদের অন্যতম প্রধান নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি ছিল। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই পানিসম্পদ মন্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে তিনি নদীভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন।
নদীর ভৌগোলিক চিত্র ও ম্যাপ প্রদর্শন করে মন্ত্রী বলেন, নদীভাঙনের মূল প্রভাব বা সূত্রপাত হয় মূলত নদীর তলদেশ থেকে, যা পরবর্তীতে তীরে এসে আঘাত হানে। তাই কেবল পাড় বাঁধাই নয়, নদীর নাব্য ফিরিয়ে আনা ও ভাঙন রোধে চলতি প্রকল্পের আওতায় সুরমা নদীর প্রায় ৫১ কিলোমিটার অংশ ড্রেজিংয়ের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সমন্বিত ও পরিকল্পিত উপায়ে সুরমা নদীর সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে।
সিলেটের নদীভাঙন রোধ ও নদী পুনর্খননে গৃহীত প্রকল্পগুলোর তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, সুরমা নদীর কানিশাইল এলাকায় ৫৫০ মিটার, মিরেরচক এলাকায় ৩০০ মিটার, মেন্দিবাগ এলাকায় ৪০০ মিটার, টোকেরবাজার এলাকায় ৫০০ মিটার এবং মিরেরগাঁও এলাকায় ৫০০ মিটার তীর প্রতিরক্ষা কাজ করা হবে। এ ছাড়া কুশি নদী ২৩ কিলোমিটার, বাসিয়া নদী ২৩ কিলোমিটার এবং সুরমা নদীর ৩ দশমিক ২ কিলোমিটার অংশ ড্রেজিং করা হবে। শারী-গোয়াইন নদীর নয়াগাঁও এলাকায় ৫০৫ মিটার ও মেরিন একাডেমি এলাকায় ৮০০ মিটার তীর প্রতিরক্ষা কাজও রয়েছে।
সিলেটের স্থায়ী জলাবদ্ধতা নিরসন ও বন্যা নিয়ন্ত্রণে ৪ হাজার ৭০০ কোটি টাকার একটি মেগা প্রকল্পের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এ প্রকল্পের বড় একটি অংশজুড়ে থাকবে সুরমা নদীর দুই পাড়ে ১৭ কিলোমিটার দীর্ঘ বাঁধ ও সুরক্ষার জন্য সড়ক নির্মাণ। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বন্যা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি পর্যটনের নতুন সুযোগ তৈরি হবে এবং স্থানীয়দের চলাচল ও প্রাতঃভ্রমণের সুযোগ বাড়বে।
নগরীর নিরাপত্তায় আধুনিক প্রযুক্তি সংযোজনের বিষয়ে তিনি বলেন, সিলেট সিটি করপোরেশনের অর্থায়নে নাইট ভিশন ও ফেসিয়াল রিকগনিশন সুবিধাসম্পন্ন সিসিটিভি ক্যামেরা, ড্রোন এবং ডিজিটাল ট্রাফিক লাইট সিস্টেম স্থাপন করা হচ্ছে। এগুলো সরাসরি সিলেট মহানগর পুলিশ পরিচালনা করবে।
নদীতীরবর্তী ও সড়কের গাছ কাটার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির আওতায় লাগানো গাছ ২০ বছর পার হলে নিয়ম অনুযায়ী কাটার বিধান রয়েছে। তবে সড়ক বিভাগ চার লেনের কাজ করুক বা না করুক, যেখানেই গাছ কাটা হবে, সেখানেই নতুন করে গাছ লাগানো নিশ্চিত করার বিষয়ে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সঙ্গে আলোচনা করে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সাম্প্রতিক বাজারদর ও নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সেপ্টেম্বরের শেষে নতুন শীতকালীন সবজি বাজারে আসার আগ পর্যন্ত সরবরাহ কিছুটা কমে যায়। এর প্রভাব বাজারে পড়ে। তীব্র গরমের সময় হাঁস-মুরগির ডিম উৎপাদন সাময়িকভাবে কমে যাওয়া ও ডিম নষ্ট হওয়ার কারণেও দামে কিছুটা তারতম্য ঘটে। তবে শীতের আগমন ও সবজির সরবরাহ বৃদ্ধির সঙ্গে বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে।
এ সময় মৌসুমি ও কারিগরি কারণগুলো গণমাধ্যমের মাধ্যমে জনগণের কাছে সঠিক ও বস্তুনিষ্ঠভাবে তুলে ধরতে সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
সিলেটের জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, পানি উন্নয়ন বোর্ডের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী প্রবীর কুমার গোস্বামী, সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন, সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী, জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান পাপলু, সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমানসহ স্থানীয় বাসিন্দা ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
টিআই