নওগাঁয় সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক ও বাসশ্রমিকদের সংঘর্ষের জেরে চতুর্থ দিনের মতো বাস ও অটোরিকশা চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে জেলার অভ্যন্তরীণ ও কয়েকটি আন্তজেলা রুটে যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
বাস ও অটোরিকশা মালিক-শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে নওগাঁ শহরের বালুডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে যাত্রী ওঠানোকে কেন্দ্র করে সিএনজিচালিত অটোরিকশার এক চালকের সঙ্গে ‘মহন্ত পরিবহন’-এর চালক ও সহকারীর বাকবিতণ্ডা হয়। এর জেরে দুপুর ১টার দিকে পত্নীতলার নজিপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় কয়েকজন সিএনজিচালক সংঘবদ্ধ হয়ে বাসচালক রুবেল হোসেন ও তাঁর সহকারীকে মারধর করেন।
এ ঘটনার প্রতিবাদে পরদিন রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে নওগাঁ-রাজশাহী, নওগাঁ-চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ-জয়পুরহাট ও নওগাঁ-বগুড়া রুটে অনির্দিষ্টকালের জন্য বাস চলাচল বন্ধ ঘোষণা করে জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়ন। একই সঙ্গে বাসশ্রমিকেরা সড়কে সিএনজিচালিত অটোরিকশা চলাচলেও বাধা দেন। এ সময় বাধা উপেক্ষা করে অটোরিকশা চালানোর চেষ্টা করা কয়েকজন চালকের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাতে প্রশাসনের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠকের পর অভ্যন্তরীণ রুটে বাস চলাচল শুরুর ঘোষণা দেওয়া হয়। তবে দুই ঘণ্টার মধ্যেই পরিস্থিতি আবার উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। মঙ্গলবার সকালে বদলগাছীতে একটি যাত্রীবাহী বাস গেলে সিএনজিচালকেরা বাসচালকের ওপর হামলা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এরপর ফের বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
এদিকে, টানা চার দিন বাস ও অটোরিকশা বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। বিকল্প যানবাহনে চলাচল করতে গিয়ে তাদের অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হচ্ছে। পাশাপাশি গন্তব্যে পৌঁছাতে সময়ও লাগছে বেশি।
রাজশাহীগামী যাত্রী ইকবার হোসেন বলেন, ‘স্ত্রীকে নিয়ে চিকিৎসার জন্য রাজশাহী যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাসস্ট্যান্ডে এসে শুনি বাস বন্ধ। সিএনজিচালকেরা কয়েকগুণ বেশি ভাড়া চাচ্ছেন। এভাবে হঠাৎ যান চলাচল বন্ধ থাকলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা অচল হয়ে পড়বে।’
আদালতে হাজিরা দিতে আসা পোরশার তারিক হোসেন বলেন, ‘বাড়ি থেকে বের হয়ে শুনি বাস নেই। তিন দফায় বিকল্প যানবাহনে এসে অতিরিক্ত ১৫০ টাকা ভাড়া দিতে হয়েছে। সময়ও নষ্ট হয়েছে অনেক। আমরা দ্রুত এ ভোগান্তির অবসান চাই।’
নওগাঁ জেলা বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকে যেসব সিদ্ধান্ত হয়েছিল, সেগুলোর কোনো লিখিত রূপ তারা পাননি। এতে সাধারণ শ্রমিকদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা ও আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে। লিখিত সিদ্ধান্ত পেলে বাস চলাচল স্বাভাবিক করা হবে।
নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, মালিক-শ্রমিকদের অভ্যন্তরীণ কিছু দ্বন্দ্বের কারণে সাময়িক এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। শ্রমিকদের দাবিগুলো পূরণের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে মালিক-শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।
কাজী কামাল হোসেন / এফএস