বিদ্যুৎ বিল হাতে পাওয়ার পর হিসাব মেলাতে গিয়ে বিপাকে পড়ছেন গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার গাজীপুর বাজার এলাকার গ্রাহকেরা। কারও অভিযোগ, মিটার না দেখেই রিডিং নেওয়া হচ্ছে। কারও ক্ষেত্রে ৫০ ইউনিট ব্যবহারের পরও বিল এসেছে ৫০০ ইউনিট পর্যন্ত। ভুল-ভ্রান্তি নিয়ে কথা বলতে আবার যেতে হয় দূরের অভিযোগ কেন্দ্রে। এতে একটি অভিযোগ জানাতেই চলে যায় তিন থেকে চার ঘণ্টা।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে গাজীপুর বাজারে আয়োজিত এক উঠান বৈঠকে এমন নানা অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন স্থানীয় গ্রাহক ও ব্যবসায়ীরা। তাদের কথার মূল দাবি একটাই-গাজীপুর বাজারেই একটি অভিযোগ কেন্দ্র চাই।
ময়মনসিংহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর মাওনা জোনাল অফিসের উদ্যোগে বিকেল ৪টার দিকে বাক্কিবিল্লাহ সুপার মার্কেট-সংলগ্ন এলাকায় এ বৈঠক হয়।
গ্রাহকেরা জানান, অনেক সময় মিটার সরেজমিনে পরিদর্শন না করেই রিডিং নেওয়া হচ্ছে। এতে প্রকৃত ব্যবহারের সঙ্গে বিলের অঙ্কের পার্থক্য তৈরি হচ্ছে। কোনো মাসে ৫০ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরও পরবর্তী সময়ে একই ধরনের ব্যবহার থাকা সত্ত্বেও ৫০০ ইউনিট পর্যন্ত বিল আসার অভিযোগ করেন তারা।
তাদের অভিযোগ, অতিরিক্ত বিলের কারণে শুধু বাড়তি টাকা পরিশোধের চাপই তৈরি হচ্ছে না, সময়মতো বিল পরিশোধ করতে না পারলে জরিমানার আশঙ্কাও থাকে। নিয়মিত মিটার পরিদর্শন ও প্রকৃত রিডিংয়ের ভিত্তিতে বিল তৈরির দাবি জানান তারা।
তবে বিলের সমস্যার পাশাপাশি আরেকটি বিষয়ও গ্রাহকদের ভোগাচ্ছে-অভিযোগ জানাতে দূরে যেতে হয়।
গাজীপুর বাজার, গাজীপুর, নিজমাওনা, শিমলাপাড়া ও চকপাড়া এলাকার গ্রাহকদের ভাষ্য, বিদ্যুৎ-সংক্রান্ত কোনো সমস্যা হলে অভিযোগ জানাতে তাঁদের দূরের অভিযোগ কেন্দ্রে যেতে হয়। যাতায়াতসহ এতে প্রায় তিন থেকে চার ঘণ্টা সময় চলে যায়। ব্যবসায়ী ও কর্মজীবী মানুষের জন্য এটি বাড়তি ভোগান্তি বলেও তারা উল্লেখ করেন।
তাই বৈঠকে স্থানীয় গ্রাহক ও ব্যবসায়ীরা গাজীপুর বাজারে একটি অভিযোগ কেন্দ্র স্থাপনের দাবি জানান। তাদের প্রত্যাশা, বাজার এলাকায় এমন একটি কেন্দ্র চালু হলে বিল, মিটার ও বিদ্যুৎ-সংক্রান্ত অন্যান্য সমস্যা দ্রুত জানানো এবং সমাধানের সুযোগ তৈরি হবে।
গ্রাহকদের অভিযোগ ও দাবিগুলো মনোযোগ দিয়ে শোনেন মাওনা জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) প্রকৌশলী শান্তনু রায়। তিনি বৈঠকে উত্থাপিত সমস্যাগুলো লিখে নেন এবং সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান।
গাজীপুর বাজারে অভিযোগ কেন্দ্র স্থাপনের দাবির বিষয়ে প্রকৌশলী শান্তনু রায় বলেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।
বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন গাজীপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও গাজীপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী এম এ গণি মৈশাল।
এ সময় শ্রীপুর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও গাজীপুর ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আবুবকর সিদ্দিক, অ্যাডভোকেট মামুনুর রশিদ, মো. সফিকুল ইসলাম, উজ্জ্বল হাসান জয়, সোহাগসহ স্থানীয় ব্যবসায়ী, শিক্ষক ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বিপুলসংখ্যক গ্রাহক উপস্থিত ছিলেন।
রফিক সরকার /টিআইএস