ENGLISH EPAPER 📍 ঢাকা 📅 সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ তথ্য অধিদফতর নিবন্ধন নম্বর ০৬
শিরোনাম
Advertisement
১২৩ বছরেও চশমা ছাড়াই কোরআন পড়েন আব্বাস প্রামাণিক
✎ অবজারভার সংবাদদাতা
⏲ প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৫৪ পিএম
X
Advertisement

জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য অনুযায়ী জন্ম ১৯০৩ সালে। সেই হিসাবে বয়স এখন ১২৩ বছর। দীর্ঘ এই জীবনে তিনি দেখেছেন ব্রিটিশ শাসনের শেষ অধ্যায়, পাকিস্তান আমল, ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীন বাংলাদেশের সাত দশকের পথচলা। বয়সের ভারে শরীর নুয়ে পড়েছে, চলাফেরায় লাগে লাঠির ভর, কমেছে শ্রবণশক্তিও। তবে এখনো বিস্ময় জাগানিয়া বিষয়—চশমা ছাড়াই স্পষ্ট চোখে পবিত্র কোরআন পড়তে পারেন নাটোরের গুরুদাসপুরের আব্বাস প্রামাণিক।

উপজেলার বিয়াঘাট ইউনিয়নের যোগেন্দ্রনগর গ্রামের মৃত সদর উদ্দিনের ছেলে আব্বাস প্রামাণিক। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, জীবনের দীর্ঘ সময় তিনি বিভিন্ন এলাকায় শিশুদের বিনা পারিশ্রমিকে কোরআন শিক্ষা দিয়েছেন। সাদাসিধে জীবনযাপন আর ধর্মীয় অনুশাসনের মধ্যেই কেটেছে তাঁর জীবনের বড় একটি সময়।

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, বয়সের কারণে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে না পারলেও নিজের কাজ নিজে করার চেষ্টা করেন আব্বাস প্রামাণিক। লাঠিতে ভর দিয়ে বাড়ির উঠানে হাঁটেন। নিয়মিত নামাজ আদায় করেন এবং চশমা ছাড়াই কোরআন তিলাওয়াত করেন। তাঁর হাতে দেখা যায় একটি ক্যাসিও ঘড়ি। পরিবারের সদস্যদের কাছে তাঁর দৃষ্টিশক্তি এখনো ভালো থাকা বিস্ময়ের বিষয়।

আব্বাস প্রামাণিকের স্ত্রী মরিয়ম আক্তার প্রায় ৫০ বছর আগে মারা গেছেন। তাঁর সমবয়সীদেরও কেউ এখন আর জীবিত নেই। দীর্ঘ জীবনের অনেক স্মৃতি এখন আর স্পষ্টভাবে মনে করতে পারেন না তিনি। একসময় আর্থিকভাবে স্বচ্ছল ছিলেন। মেট্রিকুলেশন পাস করেও চাকরি করেননি। বর্তমানে একটি ভাঙাচোরা ঘরে বসবাস করছেন। নাতি-নাতনিরা নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী তাঁর দেখাশোনা করেন।

আব্বাসের বড় ছেলে রবিউল করিমের বয়স এখন ৭৫ বছর। তিনি জানান, তাঁর বাবার পছন্দের খাবারের মধ্যে রয়েছে বাতাসা, গরুর দুধ ও মসুর ডাল। তবে এই বয়সে নিয়মিত পুষ্টিকর খাবারের ব্যবস্থা করা পরিবারের পক্ষে সবসময় সম্ভব হয় না।

নাতি জাহিদুল ইসলাম (৪৫) বলেন, ‘আমার দাদা খুবই ধার্মিক মানুষ। সৎভাবে জীবন কাটিয়েছেন। সাদাসিধে জীবনযাপন করতেন। গাড়িতে চড়াকেও বিলাসিতা মনে করতেন। জীবনের বেশিরভাগ সময় হেঁটেই চলাফেরা করেছেন। এখন শরীর আগের মতো সায় দেয় না। তবু লাঠিতে ভর করে বাড়ির উঠানে হাঁটেন।’

আরেক নাতি বেলাল হোসেন বলেন, ‘দাদার ছেলে-মেয়ে ও নাতি-নাতনিরা সবাই নিজ নিজ সংসার নিয়ে ব্যস্ত। তাই তাঁকে দেখাশোনার জন্য নির্দিষ্ট কেউ নেই। আমরা নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী পাশে থাকার চেষ্টা করি। দাদার ঘরটিও ভাঙাচোরা। তারপরও যতটুকু সম্ভব তাঁকে ভালো রাখার চেষ্টা করি।’

আব্বাসের মেয়ে আলিমা বেগম বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই আব্বাকে সৎ ও সহজ-সরল জীবনযাপন করতে দেখেছি। তিনি এখনো চশমা ছাড়া কোরআন পড়েন। অথচ তাঁর সন্তানরাই এখন চোখে কিছুটা ঝাপসা দেখেন। আব্বা বর্তমানে সন্তান ও নাতি-নাতনিদের সঙ্গেই থাকেন। সুযোগ পেলেই তাঁর পছন্দের খাবার নিয়ে তাঁকে দেখতে যাই।’

পরিবারের সদস্যরা জানান, শখের বসে আব্বাস প্রামাণিক বিভিন্ন মসজিদ ও মাদ্রাসায় শিশুদের বিনা পারিশ্রমিকে কোরআন শিক্ষা দিতেন। দীর্ঘ জীবনে তাঁর আয় সীমিত হলেও জীবনযাপনে ছিল সরলতা ও মিতব্যয়িতা।

গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা আফরোজ বলেন, ‘আব্বাস প্রামাণিক উপজেলার প্রবীণ ব্যক্তিদের একজন। বয়সের কারণে তিনি তেমন চলাফেরা করতে পারেন না। তাঁর চলাচলের সুবিধার জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাড়ির সামনে সিঁড়ি করে দেওয়া হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আব্বাস আলীর চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছে খুবজীপুর প্রবীণ সেবা কেন্দ্র। উপজেলা প্রশাসনও বিভিন্ন সময়ে তাঁকে সহযোগিতা করে আসছে।’

১২৩ বছর বয়সী আব্বাস প্রামাণিকের জীবন যেন সময়ের দীর্ঘ এক সাক্ষ্য। ব্রিটিশ আমল থেকে স্বাধীন বাংলাদেশ—এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের নানা পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে আজও বেঁচে আছেন তিনি। বয়সের ভারে শরীর দুর্বল হলেও কোরআনের অক্ষর পড়ার সেই অভ্যাস এখনো অটুট। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে তাঁর সবচেয়ে বড় প্রয়োজন হয়ে উঠেছে পরিবারের সঙ্গ, যত্ন এবং একটু বাড়তি মমতা।

এমএ/আরএন
Loading...
Loading...
আরো দেখুন
সম্পাদক: ইকবাল সোবহান চৌধুরী
অবজারভার লিমিটেডের পক্ষে সম্পাদক কর্তৃক গ্লোব প্রিন্টার্স, ২৪/এ, নিউ ইস্কাটন রোড, রমনা, ঢাকা থেকে প্রকাশিত।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:আজিজ ভবন (৩য় তলা), ৯৩, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা (সি/এ), ঢাকা-১০০০।

ফোন: পিএবিএক্স- ৪১০৫৩০০১-০৬; বিজ্ঞাপন: ৪১০৫৩০১২; ০১৭৯৩৩১৭৮২৯, ০১৫৫০৭০৭২৯১, ই-মেইল: [email protected], ‍[email protected] অনলাইন: ৪১০৫৩০১৪; ০১৫৫০৭০৭২৯৭ ই-মেইল: [email protected] ০১৫৫০৭০৭২৯৬
🔝
Advertisement