অর্থ আত্মসাৎ মামলায় প্রাইম ব্যাংক খুলনা শাখার দুই কর্মকর্তা ও এক ব্যবসায়ীকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাদের ৩ কোটি ১৫ লাখ ৬৫ হাজার ৫৬১ টাকা ২৯ পয়সা জরিমানা, অনাদায়ে প্রত্যেককে আরও দুই বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রায় ঘোষণার সময় তিন আসামির কেউই আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
সোমবার খুলনার বিভাগীয় স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আদীব আলী এ রায় ঘোষণা করেন। আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. ইয়াছিন আলী এ তথ্য জানান।
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন খান এ সবুর রোডের মেসার্স মিংহুয়া ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল ও সাজেদা ওয়াহাব অ্যান্ড সন্সের প্রোপ্রাইটর শেখ আবু রাশেদ, প্রাইম ব্যাংক লিমিটেডের খুলনা শাখার সাবেক সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট সৈয়দ জহিরুল হক এবং একই শাখার সাবেক ফরেন এক্সচেঞ্জ ইনচার্জ কাজী রবিউল ইসলাম।
আদালত সূত্র জানায়, আসামি সৈয়দ জহিরুল হক ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক থাকাকালে অপর আসামি শেখ আবু রাশেদ এলসির মাধ্যমে পণ্য আমদানির জন্য ঋণসীমা মঞ্জুরের আবেদন করেন।
শাখা ব্যবস্থাপকের সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে প্রাইম ব্যাংক লিমিটেডের প্রধান কার্যালয় রাশেদের মালিকানাধীন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ২০ শতাংশ মার্জিনে ১ কোটি ২০ লাখ টাকার এলসি মঞ্জুর করে। পরে রাশেদ ভারত থেকে ১৪টি এলসির মাধ্যমে পণ্য আমদানি করেন।
সৈয়দ জহিরুল হক ও কাজী রবিউল ইসলাম ১৪টি এলসির মাধ্যমে আমদানি করা পণ্যের মূল্য বাবদ ২ কোটি ৭৫ লাখ ৪২ হাজার ৯৪৭ টাকা ৯১ পয়সা ২৭টি এলটিআর হিসাবের মাধ্যমে ২০০৪ সালের ৬ ডিসেম্বর থেকে ২০০৫ সালের ১৬ নভেম্বর পর্যন্ত ভারতীয় রপ্তানিকারক ব্যাংকের অনুকূলে পরিশোধ করেন।
রাশেদ আমদানি করা পণ্য বিক্রি করে ঋণপত্রের শর্ত অনুযায়ী পাওনা পরিশোধের জন্য চুক্তিবদ্ধ থাকলেও তিনি ব্যাংকের টাকা পরিশোধ করেননি।
সূত্রটি আরও জানায়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে অন্যায়ভাবে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার আশায় অসৎ উদ্দেশ্যে ক্ষমতার অপব্যবহার করে ২০০৪ সালের ৬ ডিসেম্বর থেকে ২০০৫ সালের ১৬ নভেম্বর পর্যন্ত এলসির মাধ্যমে আমদানি করা পণ্যের মূল্য বাবদ ৩ কোটি ১৫ লাখ ৬৫ হাজার ৫৬১ টাকা ঋণপত্রের শর্ত ভঙ্গ করে ব্যাংকে পরিশোধ না করে আত্মসাৎ করেন।
২০১১ সালের ২৯ মে দুদক খুলনা জেলা সমন্বিত কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক আমিনুল ইসলাম এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করেন। ২০১২ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি দুদকের উপসহকারী পরিচালক মো. আমিনুল ইসলাম উল্লিখিত আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ২০২০ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি খুলনা বিভাগীয় স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক মো. জিয়া হায়দারের আদালতে তিন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়।
এসএস/আরএন