প্রশ্ন করতে গিয়ে কখনো কি মনে হয়েছে, ‘এটা জিজ্ঞেস করলে সবাই হাসবে না তো?’ এমন দ্বিধা অনেকেরই থাকে। খুব সাধারণ কোনো বিষয় না জানার কারণে প্রশ্ন করতে সংকোচবোধ করি আমরা। অথচ শেখার শুরুই হয় প্রশ্ন থেকে। তাই প্রতিবছর ২৮ সেপ্টেম্বর পালিত হয় ‘আস্ক আ স্টুপিড কোয়েশ্চন ডে’ বা ‘বোকা প্রশ্ন করার দিন’। এই দিনের মূল বার্তা জানতে চাওয়ার মধ্যে লজ্জার কিছু নেই।
কেন এই দিনের প্রয়োজন?
স্কুলজীবনে অনেক শিক্ষার্থীই ক্লাসে প্রশ্ন করতে চাইলেও হাত তুলতে ভয় পায়। মনে হয়, প্রশ্নটি হয়তো খুব সহজ বা বোকা শোনাবে এবং সহপাঠীরা হাসাহাসি করবে। এই ভয় দূর করতেই যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকজন শিক্ষক ১৯৮০-এর দশকে শিক্ষার্থীদের এমন একটি পরিবেশ দেওয়ার উদ্যোগ নেন, যেখানে তারা সংকোচ ছাড়াই নিজেদের প্রশ্ন করতে পারে। ধীরে ধীরে সেই উদ্যোগ একটি বিশেষ দিনের রূপ নেয়। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি যুক্তরাজ্য ও বিভিন্ন দেশে দিনটি পালনের কথা উল্লেখ করা হয়।
প্রশ্ন শুধু কোনো একটি বিষয়ের উত্তর জানার পথ নয়। প্রশ্ন করতে করতে মানুষ নতুন বিষয় সম্পর্কে জানতে পারে, নিজের ধারণা পরিষ্কার করতে পারে এবং ভিন্নভাবে চিন্তা করার সুযোগ পায়। বিশেষ করে শিশুরা ‘কেন’ ও ‘কীভাবে’ ধরনের প্রশ্নের মাধ্যমে চারপাশের পৃথিবী সম্পর্কে ধারণা তৈরি করে। শিক্ষার ক্ষেত্রেও প্রশ্নের গুরুত্ব রয়েছে। একজন শিক্ষার্থী কোথায় আটকে যাচ্ছে, কোন বিষয়টি বুঝতে পারছে না প্রশ্নের মাধ্যমে শিক্ষক সেটি বুঝতে পারেন। ফলে প্রশ্ন করা শিক্ষার্থীর শেখার পাশাপাশি শিক্ষকের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিক্রিয়া হিসেবে কাজ করে।
অদ্ভুত প্রশ্নও হতে পারে গুরুত্বপূর্ণ
এই দিনে এমন প্রশ্নও করা যায়, যেগুলো শুনতে অদ্ভুত বা মজার। যেমন-রিমোটের ব্যাটারি শেষের দিকে গেলে আমরা কেন বোতাম আরও জোরে চাপি? কিংবা ছবির সময় চিজকে কেন ‘চিজ’ বলা হয়? এসব প্রশ্নের সবগুলোর উত্তর হয়তো খুব গুরুত্বপূর্ণ নয়, কিন্তু কৌতূহল থেকে তৈরি হওয়া প্রশ্নই নতুন আলোচনার দরজা খুলে দিতে পারে। অনেক সময় এমন প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে মানুষ নতুন তথ্য জানতে পারে। ফলে প্রশ্ন যত ছোট বা সাধারণই হোক, তার পেছনের কৌতূহলটি গুরুত্বপূর্ণ।
কীভাবে পালন করবেন এই দিন?
দিনটি পালনের সবচেয়ে সহজ উপায় হলো, মনে থাকা এমন কোনো প্রশ্ন করা যা এতদিন সংকোচে কাউকে জিজ্ঞেস করেননি। বন্ধু, পরিবারের সদস্য বা সহকর্মীদের সঙ্গে মিলে প্রশ্নোত্তরের আয়োজনও করা যেতে পারে। যারা সরাসরি প্রশ্ন করতে অস্বস্তি বোধ করেন, তারা কাগজে নিজেদের প্রশ্ন লিখে রাখতে পারেন। পরে সেগুলো একে একে তুলে আলোচনা করা যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নিজের কৌতূহলের প্রশ্ন তুলে অন্যদের মতামত নেওয়া যেতে পারে।
আসলে ‘বোকা প্রশ্ন’ বলে কিছু নেই আছে শুধু এমন প্রশ্ন, যার উত্তর আমরা এখনো জানি না। আর জানার ইচ্ছাই তো শেখার প্রথম ধাপ। তাই আজকের দিনে সংকোচ না করে প্রশ্ন করুন, উত্তর খুঁজুন এবং অন্যকেও প্রশ্ন করতে উৎসাহ দিন।
এসএফ