ENGLISH EPAPER 📍 ঢাকা 📅 মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩ তথ্য অধিদফতর নিবন্ধন নম্বর ০৬
শিরোনাম
Advertisement
বানার নদীতে ময়লার পাহাড়, পাশে পড়ে আছে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র
✎ অবজারভার সংবাদদাতা
⏲ প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:২৮ এএম
সংগৃহীত ছবি
X
Advertisement

সংগৃহীত ছবি

খেয়াঘাটে নৌকা আছে, মাঝিও আছেন। প্রতিদিনের মতো নদীর দুই পাড়ের মানুষও পার হচ্ছেন। তবে ঘাটে পৌঁছাতেই বদলে যায় চেনা দৃশ্য। নদীর স্বাভাবিক গন্ধের বদলে নাকে আসে পচা বর্জ্যের ঝাঁঝালো দুর্গন্ধ। কোথাও পলিথিন, কোথাও পচা সবজি, আবার কোথাও জমে আছে নানা ধরনের আবর্জনা। ময়লার স্তূপ পেরিয়ে নৌকায় উঠতে গিয়ে অনেক পথচারীকে নাক-মুখ চেপে ধরতে দেখা যায়।

একসময় যে নদ ছিল মানুষের যাতায়াত ও জীবিকার অন্যতম ভরসা, সেই নদপাড়ের একটি অংশ এখন যেন অঘোষিত ভাগাড়। দীর্ঘদিন ধরে বর্জ্য জমতে জমতে ঘাটের একটি অংশ প্রায় অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। বর্জ্যের কিছু অংশ নদীর পানিতে গড়িয়ে পড়ছে; অপচনশীল পলিথিন ও প্লাস্টিক ছড়িয়ে পড়ছে নদীর তলদেশেও।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এক-দুই দিনের নয়। প্রায় পাঁচ বছর ধরে কাপাসিয়া বাজার ও আশপাশের এলাকার বিভিন্ন বর্জ্য নিয়মিত নদীর পাড়ে ফেলা হচ্ছে। শুরুতে অল্প অল্প করে ফেলা হলেও সময়ের সঙ্গে সেই বর্জ্যই এখন বড় স্তূপে পরিণত হয়েছে।

সরেজমিনে কাপাসিয়া খেয়াঘাট ও কাঁচাবাজার এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, নদপাড়জুড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য। কোথাও পচে যাওয়া সবজি, কোথাও পলিথিন ও প্লাস্টিকজাতীয় সামগ্রী। দুর্গন্ধে ঘাট এলাকায় দাঁড়িয়ে থাকাও কঠিন।

এই ঘাট দিয়ে প্রতিদিন নদীর দুই পাড়ের মানুষ পারাপার হন। স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে বাজারমুখী সাধারণ মানুষ। সবারই নিয়মিত যাতায়াত এই পথে। ফলে ঘাটের বর্জ্য শুধু নদীর পরিবেশই নষ্ট করছে না, ভোগান্তিতে ফেলছে প্রতিদিনের যাত্রীদেরও।

খেয়াঘাটের মাঝি শ্রী সুধাস চন্দ্র মনিদাস বলেন, “আমরা কারে কইয়াম। আমরার কথা কেউ হুনবো। মানুষের যে কষ্ট আইতাছে, এইজন্য কারো কিছু যায়-আসে না।”

অপর মাঝি মো. আসাদুল্লাহ বলেন, “কিছু করার নাই। বহুদিন ধইরা ভোগতাছি। এহন আর আমগর বলার কিছু নাই। সহ্য হয়ে গেছে। ময়লা ফালতে থাকুক, কিছুই কওয়ার নাই।”

নদপাড়ের বর্জ্যের প্রভাব ঘাটের সীমানায়ও আটকে নেই। স্থানীয়দের অভিযোগ, কাঁচাবাজারের কিছু সবজি বিক্রেতা বর্জ্যমিশ্রিত নদীর পানি দিয়ে সবজি ধুয়ে থাকেন।

অভিযোগটি সত্য হলে পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি জনস্বাস্থ্য নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়। কারণ বাজারে বিক্রির আগে সবজি পরিষ্কারে ব্যবহৃত পানি দূষিত হলে তার প্রভাব ভোক্তার খাদ্যেও পড়তে পারে।

বাজারের ব্যবসায়ী মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, “ক্ষমতায় অনেকে এসেছে-গেছে, কিন্তু তারা এই বর্জ্য নিয়ে ভাবেনি, কোনো কাজ করেনি। এখন নতুন সরকার যদি এই বিষয় নিয়ে কাজ না করে, আমাদের আর বলার কিছু থাকবে না।”

অপর ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম বলেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র থাকার পরও এমন পরিস্থিতি অত্যন্ত দুঃখজনক। মানুষ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বর্জ্যও বাড়ছে। কিন্তু বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের তেমন উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।

নদপাড়ের এই চিত্রের সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি হলো। যে ঘাটে বছরের পর বছর বর্জ্য জমছে, সেখান থেকে মাত্র প্রায় ৫০০ মিটার দূরেই রয়েছে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও জৈব সার উৎপাদন কেন্দ্র।

উপজেলা প্রশাসনের বাস্তবায়নে নির্মিত কেন্দ্রটি ২০২৩ সালের অক্টোবরে উদ্বোধন করা হয়। বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আওতায় আনার পাশাপাশি সেখান থেকে জৈব সার উৎপাদনের উদ্দেশ্যে কেন্দ্রটি নির্মাণ করা হয়েছিল।

তবে স্থানীয়দের দাবি, ২০২৪ সাল থেকে কেন্দ্রটি কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়ে আছে। ফলে একদিকে নদপাড়ে বাড়ছে বর্জ্যের স্তূপ, অন্যদিকে নদী থেকে অল্প দূরেই পড়ে আছে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য নির্মিত অবকাঠামো।

কেন কেন্দ্রটি চালু নেই। এ প্রশ্নে সামনে আসে লোকালয়ের সমস্যার কথা।

কাপাসিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বলেন, “আমরা বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্ল্যান্ট করব। নদীর পাড়ে নতুন জায়গা দেখা হচ্ছে।”

বিদ্যমান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও জৈব সার উৎপাদন কেন্দ্রের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “ওইটা অকার্যকর। লোকালয়ের মধ্যে হওয়ায় এলাকার লোকজন সমস্যা করে। আমরা নতুন জায়গা দেখছি।”

  রফিক সরকার / এফএস 
Advertisement
Loading...
Loading...
আরো দেখুন
সম্পাদক: ইকবাল সোবহান চৌধুরী
অবজারভার লিমিটেডের পক্ষে সম্পাদক কর্তৃক গ্লোব প্রিন্টার্স, ২৪/এ, নিউ ইস্কাটন রোড, রমনা, ঢাকা থেকে প্রকাশিত।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:আজিজ ভবন (৩য় তলা), ৯৩, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা (সি/এ), ঢাকা-১০০০।

ফোন: পিএবিএক্স- ৪১০৫৩০০১-০৬; বিজ্ঞাপন: ৪১০৫৩০১২; ০১৭৯৩৩১৭৮২৯, ০১৫৫০৭০৭২৯১, ই-মেইল: [email protected], ‍[email protected] অনলাইন: ৪১০৫৩০১৪; ০১৫৫০৭০৭২৯৭ ই-মেইল: [email protected] ০১৫৫০৭০৭২৯৬
🔝
Advertisement