কাপ্তাই হ্রদের মাছ, পানি ও মাটিতে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি পেয়েছেন গবেষকেরা। প্লাস্টিক ও পলিথিনের দূষণে হ্রদের জলজ পরিবেশ ও মানবস্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিম্যাল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয় এবং নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় কাপ্তাই হ্রদের বিভিন্ন প্রজাতির মাছের শরীরে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে।
২০২৪ সালের ডিসেম্বরে হ্রদের রিজার্ভ বাজার, শুভলং বাজার ও বিএফডিসি ঘাট এলাকা থেকে সংগ্রহ করা পাঁচ প্রজাতির দেশি ছোট মাছের ৭৫টি নমুনার সব কটিতেই মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হয়।
গবেষণায় মাছের পরিপাকতন্ত্রে প্লাস্টিকের তন্তু, নাইলনের কণা ও পলিথিনজাত উপাদান পাওয়া গেছে। মাছ ধরার জাল, গৃহস্থালির প্লাস্টিক বর্জ্য ও পলিথিনকে দূষণের সম্ভাব্য উৎস হিসেবে চিহ্নিত করেছেন গবেষকেরা।
চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিম্যাল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক সাঈফুদ্দিন রানা বলেন, গবেষণার ফলাফল মানেই কাপ্তাই হ্রদের মাছ খাওয়া যাবে না, এমন নয়। তবে প্লাস্টিকদূষণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।
রাঙামাটি মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এইচ এম রাকিবুল ইসলাম বলেন, প্লাস্টিকদূষণ নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে দেশীয় মাছের প্রজনন ও বংশবৃদ্ধিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
রাঙামাটির সিভিল সার্জন নুয়েন খীসা জানান, খাদ্যের মাধ্যমে মাইক্রোপ্লাস্টিক মানবদেহে প্রবেশ করলে দীর্ঘ মেয়াদে স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী বলেন, কাপ্তাই হ্রদকে দূষণমুক্ত রাখতে জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি দূষণকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হবে।
১৯৬২ সালে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য তৈরি কাপ্তাই হ্রদে স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও পর্যটকদের ফেলে দেওয়া প্লাস্টিক ও পলিথিন বর্জ্য দূষণ বাড়াচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। হ্রদের পরিবেশ রক্ষায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা জোরদার ও প্লাস্টিকদূষণ নিয়ন্ত্রণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
এফএস