ব্রিটিশ কাউন্সিলের সহযোগিতায় গত ২৫ সেপ্টেম্বর, শুক্রবার অনুষ্ঠিত হলো ‘ওম্যান: দ্য ওয়াও ফেস্ট’। রাজধানীর আলোকিতে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে শিল্পী, সাংস্কৃতিক কর্মী ও তরুণ-তরুণী সহ বিভিন্ন কমিউনিটির লোকজন অংশ নেন। দিনব্যাপী এ আয়োজনে ছিল নানা ধরণের সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, প্রদর্শনী ও উন্মুক্ত আলোচনা।
ব্রিটিশ কাউন্সিলের ‘উইমেন অব দ্য ওয়ার্ল্ড’ (ওয়াও) বাংলাদেশ ২০২৬-এর সহযোগিতায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেছে সাধনা ও নৃত্যশিল্পী ফাউন্ডেশন।
‘রিমেম্বারিং মেমোরিজ, রিক্লেইমিং বডিজ’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে দলগত সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও গল্পের মাধ্যমে নারীরা কীভাবে সামাজিকভাবে বদ্ধমূল ধারণা ও প্রত্যাশাকে চ্যালেঞ্জ করে সামনে এগিয়ে যান, তা তুলে ধরা হয়।
আয়োজনটি শুরু হয় দুপুর ১২টায়। এতে ছিল শিল্পপ্রদর্শনী, অংশগ্রহণমূলক আর্ট ইনস্টলেশন এবং শিল্পকর্ম ও খাবারের স্টল। আয়োজনে শিল্পী ইশরাত রউফের শিল্পকর্ম ‘বহুরেখা’ তৈরিতে দর্শকেরাও অংশ নেন। নিজেদের স্মৃতি, পরিচয় ও জীবনের নানা অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিয়ে তাঁরা শিল্পকর্মটি তৈরিতে সরাসরি অবদান রাখেন।
বিকেলের পর্বে ছিল বিভিন্ন পরিবেশনা ও উপস্থাপনা। শারীরিক স্বাধীনতা, শৈশব, সামাজিক প্রত্যাশা কিংবা আত্মপরিচয়ের মতোন বিষয়ের উপরে ছিল এসব আয়োজন।
বিকেল ৪টা থেকে ছিল চারটি দলগত নৃত্যনাট্য (ড্যান্স-থিয়েটার) পরিবেশনা। জনজীবনে নারীর অংশগ্রহণ, লৈঙ্গিক ধারণা, ক্ষমতার কাঠামো, বাস্তুচ্যুতি, প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলা ও সম্মিলিত উদ্যোগের মতো বিষয় উঠে আসে এতে। এর মধ্যে ছিল পুরুষতান্ত্রিকতা ও নারীবাদ বিষয়ে নির্মিত “উইমেনস পলিটিক্স অ্যান্ড উইমেন ইন পলিটিক্স”; পুঁজিবাদ, ভোগবাদ ও নারীদেহ বিষয়ে “ইনসাইড দ্য লাইন”; বিশ্বাস, নারীবাদ ও ধর্মীয় রাজনীতি বিষয়ে “ডিড গড সে দিজ থিংস?”; এবং যুদ্ধ, সংঘাত, দেশত্যাগ ও নারীবাদ বিষয়ে “আফটার দ্য সাইলেন্স”।
এ ছাড়া ‘ফ্রম স্কোর টু স্টেজ’ শীর্ষক আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণকারীদের সৃজনশীল কাজ এবং আয়োজনের নেপথ্যের বিভিন্ন মুহূর্ত তুলে ধরা হয়।
তরুণ, নারী ও কিশোরীদের সহায়তা, অন্তর্ভুক্তি এবং সৃজনশীল খাতের বিকাশে ব্রিটিশ কাউন্সিল বাংলাদেশের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এ আয়োজন করা হয়। শিল্পী ও দর্শকদের একসঙ্গে অংশ নেওয়ার সুযোগের মাধ্যমে বিভিন্ন অভিজ্ঞতা ও মতামত ভাগ করে নেওয়ার একটি পরিসর তৈরি করা এ আয়োজনের লক্ষ্য।
লুবনা মারিয়াম, আর্টিস্টিক ডিরেক্টর, সাধনা, বলেন, “বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থা কারোই অজানা নয়। তবুও আমি আশাবাদী। আমরা নারীরা অসহায় না; আমরা সবসময় নিজেদের জন্য লড়াই করে এসেছি।”
তিনি আরও বলেন, “এই প্রচেষ্টায় আমাদের সহযোগিতা করার জন্য ব্রিটিশ কাউন্সিলের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। তবে কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে আমাদের এখনও অনেক পথ বাকি।”
আলোচনা, শিল্পচর্চা ও বিভিন্ন কমিউনিটির মানুষের অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি করে ‘ওম্যান: দ্য ওয়াও ফেস্ট’ মানুষের মধ্যে বোঝাপড়া বাড়াতে, বিভিন্ন মানুষের কথা তুলে ধরতে এবং আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনে শিল্প ও সংস্কৃতির ভূমিকা তুলে ধরছে।
-টিএস