
সংগৃহীত ছবি
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে ইরানের সামরিক সক্ষমতা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে। এ সময় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থনের জন্যও তাঁকে ধন্যবাদ জানান নেতানিয়াহু।
২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘে নেতানিয়াহুর বক্তব্য চলাকালে ভবনের বাইরে বিক্ষোভ করেন প্রতিবাদকারীরা। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের বিরোধিতা করে তারা বিভিন্ন স্লোগান দেন।
বক্তৃতায় নেতানিয়াহু ইসরায়েলি সেনাদের কর্মকাণ্ড নিয়ে সমালোচনার জবাব দেন এবং তাঁর সমালোচকদের বিরুদ্ধে তথ্য বিকৃতির অভিযোগ তোলেন। নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানির বিরুদ্ধেও বক্তব্য দেন তিনি। এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেতানিয়াহু জানিয়েছিলেন, জাতিসংঘে গিয়ে ইসরায়েলি সেনাদের বিষয়ে নিজের বক্তব্য তুলে ধরবেন এবং নিউইয়র্কের মেয়রের সমালোচনা করবেন।
বক্তৃতার একপর্যায়ে একটি সাদা বাক্স প্রদর্শন করেন নেতানিয়াহু। তাঁর দাবি, এটি স্টারলিংক প্রযুক্তির একটি যোগাযোগ ডিভাইস, যার মাধ্যমে ইন্টারনেটে প্রবেশ করে তথ্য জানা এবং মতপ্রকাশের সুযোগ পাওয়া যায়।
নেতানিয়াহুর দাবি, ইরানের সরকার ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণ ও সেন্সর করার জন্য বিপুল অর্থ ব্যয় করে। এই প্রযুক্তি ইরানের জনগণকে তথ্য পাওয়া এবং নিজেদের মতামত প্রকাশের সুযোগ দিতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
নেতানিয়াহু আরও বলেন, ডিভাইসটি তিনি ইরানি প্রতিনিধিদলের কাছে রেখে যাবেন, যাতে ভবিষ্যতে তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরতে পারে।
বক্তব্যে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানের বিরুদ্ধেও একাধিক অভিযোগ তোলেন নেতানিয়াহু। তিনি এরদোয়ানকে ‘স্বৈরশাসক’ হিসেবে বর্ণনা করেন এবং অভিযোগ করেন, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট সিরিয়ার ওপর প্রভাব বা নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছেন।
নেতানিয়াহু আরও দাবি করেন, এরদোয়ান নিয়মিত ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কঠোর বক্তব্য দেন এবং জেরুজালেম নিয়ে তুরস্কের উচ্চাকাঙ্ক্ষার কথা বলেন।
এদিকে ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস তাঁর ভিডিও বক্তব্যে বলেন, ইসরায়েলি দখলদারিত্বের অবসানের দাবি জানানো কিংবা জাতিসংঘের দ্বারস্থ হওয়ার কারণে ফিলিস্তিনি জনগণ ও তাদের নেতৃত্বকে শাস্তি দেওয়া উচিত নয়।
আব্বাস ফিলিস্তিনিদের অধিকার এবং ইসরায়েলি দখলদারিত্বের অবসানের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন। তাঁর বক্তব্যে ফিলিস্তিনিদের রাজনৈতিক ও মানবিক পরিস্থিতিও গুরুত্ব পায়।
২০২৪ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের সময় যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের প্রসঙ্গে আদালত এই পদক্ষেপ নেয়। ইসরায়েল এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।
নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি এর আগে নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তারের আহ্বান জানিয়েছিলেন এবং আইসিসির অবস্থানের সঙ্গে একমত থাকার কথা প্রকাশ্যে জানিয়েছিলেন।
জাতিসংঘে নেতানিয়াহুর বক্তব্যে ইরানের সামরিক সক্ষমতা, ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাত, তুরস্কের ভূমিকা এবং আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থার মতো বিষয়গুলো উঠে আসে। একই সময়ে তাঁর বক্তব্যের বাইরে বিক্ষোভও দেখা যায়।
এফএস