জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে তুরস্কের বিরুদ্ধে সাইপ্রাসের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছেন সাইপ্রাস প্রজাতন্ত্রের প্রেসিডেন্ট নিকোস ক্রিস্টোদৌলিদেস। একই সঙ্গে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানকে জাতিসংঘ সনদ বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
বক্তব্যে ক্রিস্টোদৌলিদেস বলেন, বর্তমান আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা নজিরবিহীন পরীক্ষার মুখে রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক আইন, জাতিসংঘ সনদ, রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি সম্মান, বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান এবং মানবাধিকার রক্ষার মতো মৌলিক নীতিগুলো আরও শক্তভাবে অনুসরণ করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, জাতিসংঘের বিশ্বাসযোগ্যতা নির্ভর করে আন্তর্জাতিক আইন ধারাবাহিক ও সবার ক্ষেত্রে একইভাবে প্রয়োগের ওপর।
১৯৭৪ সালের তুর্কি সামরিক অভিযানের ৫২ বছর পরও সাইপ্রাসের এক-তৃতীয়াংশের বেশি ভূখণ্ড তুরস্কের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে দাবি করেন ক্রিস্টোদৌলিদেস। তাঁর অভিযোগ, কয়েক দশক ধরে হাজার হাজার বাস্তুচ্যুত মানুষ ও তাঁদের বংশধর নিজেদের বাড়িতে ফিরতে পারেননি। একই সঙ্গে ভারোশা এলাকা বন্ধ রাখা, মানবাধিকার লঙ্ঘন, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ধ্বংস এবং বসতি স্থাপনের মাধ্যমে জনমিতিক পরিবর্তনের অভিযোগও তোলেন তিনি।
সাইপ্রাসের প্রেসিডেন্ট বলেন, কোনো রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি সম্মান তার আকার, শক্তি কিংবা সময়ের ব্যবধানের ওপর নির্ভর করা উচিত নয়।
এরদোয়ানের আগের দিনের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে ক্রিস্টোদৌলিদেস বলেন, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট আন্তর্জাতিক আইন এবং সব রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি সম্মানের কথা বলেছেন। কিন্তু সাইপ্রাসের ক্ষেত্রে তুরস্ক তার বিপরীত অবস্থান নিয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এরপর সরাসরি এরদোয়ানকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, “আপনি যদি জাতিসংঘ সনদের কথা বলতে চান, তাহলে প্রথমে সেটি বাস্তবায়ন করতে হবে।”
তবে সংঘাতের রাজনৈতিক সমাধানের বিষয়ে আলোচনার দরজা খোলা রাখার কথাও জানান ক্রিস্টোদৌলিদেস। তিনি বলেন, ২০১৭ সালে থেমে যাওয়া আলোচনা জাতিসংঘের সম্মত কাঠামোর মধ্যে আবার শুরু করতে তিনি প্রস্তুত।
তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রিক সাইপ্রিয়ট, তুর্কি সাইপ্রিয়টসহ দ্বীপটির বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের শান্তি, নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধির জন্য একটি সমন্বিত সমাধান প্রয়োজন।
ক্রিস্টোদৌলিদেসের বক্তব্যের শেষদিকে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, সাইপ্রাসের বিভক্তিকে ভবিষ্যতের সমাধান হিসেবে গ্রহণ করা হবে না। দ্বীপটিকে পুনরায় একত্রিত করার বিষয়ে তাঁর সরকারের অবস্থান অটুট বলেও জানান তিনি।
এফএস