ক্যারিবীয় সাগরে মাদক পাচারের অভিযোগে একটি দ্রুতগতির নৌযানে মার্কিন সামরিক বাহিনীর হামলায় চারজন নিহত হয়েছেন।
মার্কিন দক্ষিণাঞ্চলীয় সামরিক কমান্ড শনিবার জানায়, পশ্চিম গোলার্ধের যৌথ টাস্কফোর্স ক্যারিবীয় অঞ্চলের প্রতিষ্ঠিত মাদক পাচারের পথে চলাচলকারী একটি দ্রুতগতির নৌযানে প্রাণঘাতী হামলা চালায়। তবে হামলাটি ঠিক কোথায় চালানো হয়েছে, তা জানানো হয়নি।
প্রকাশিত ভিডিওতে একটি চলন্ত নৌযানকে অনুসরণ করার পর সেটিতে বিস্ফোরণের মতো আলোর ঝলক দেখা যায়।
মার্কিন সামরিক কমান্ডের দাবি, গোয়েন্দা তথ্যের মাধ্যমে নৌযানটির মাদক পাচারে সক্রিয়ভাবে জড়িত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছিল। হামলায় নিহত চারজনকে তারা ‘মাদক-সন্ত্রাসী’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। তবে নৌযানটিতে মাদক ছিল এমন কোনো প্রমাণ প্রকাশ করা হয়নি।
মার্কিন সামরিক কমান্ডের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২ সেপ্টেম্বর থেকে এ পর্যন্ত মাদক পাচারের অভিযোগে ৭০টি প্রকাশ্য হামলা চালানো হয়েছে। এসব হামলায় অন্তত ২৩৪ জন নিহত হয়েছেন।
চলতি মাসে এটি দ্বিতীয় হামলা। আগস্টেও দুটি হামলা চালানো হয়েছিল। এর আগে দুই মাস এ ধরনের হামলা বন্ধ ছিল।
এদিকে এসব হামলা নিয়ে ক্রমবর্ধমান সমালোচনার মুখে পড়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। ডেমোক্র্যাট ও মানবাধিকারকর্মীরা অভিযোগ করছেন, এসব অভিযানে সামরিক বাহিনীকে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডে ব্যবহার করা হচ্ছে। নিহতদের কয়েকজনের স্বজনও দাবি করেছেন, তাদের স্বজনরা মাদক পাচারকারী গোষ্ঠী বা অপরাধী চক্রের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না; তারা জেলে ছিলেন।
ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র এসব গোষ্ঠীর সঙ্গে ‘সশস্ত্র সংঘাতে’ রয়েছে। হামলাগুলোকে বৈধতা দিতে প্রশাসন সন্ত্রাসবিরোধী কাঠামো ব্যবহার করছে। তবে হামলার আইনি ভিত্তি এবং কোন কোন কার্টেল ও গোষ্ঠীকে লক্ষ্যবস্তু করা যাবে সংক্রান্ত তথ্য গোপন রাখা হয়েছে।
এ পর্যন্ত লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের ২১টি অপরাধী চক্র ও মাদক কার্টেলকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ভেনেজুয়েলার ট্রেন দে আরাগুয়া, সিনালোয়া কার্টেল এবং মেক্সিকোর জালিসকো নিউ জেনারেশন কার্টেল রয়েছে।
ইউপিআই/এফএস