ENGLISH EPAPER 📍 ঢাকা 📅 মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ তথ্য অধিদফতর নিবন্ধন নম্বর ০৬
শিরোনাম
Advertisement
আসিফ নজরুলের নির্দেশেই ভারতে খেলতে যায়নি বাংলাদেশ : তদন্ত কমিটি
⏲ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:০৮ পিএম
সংগৃহীত ছবি
X
Advertisement

সংগৃহীত ছবি

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে ভারত যায়নি বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। সে সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা ও যথার্থতা নিয়ে তখনও প্রশ্ন উঠেছিল। তাৎক্ষণিকভাবে ক্রিকেটারদের কেউ প্রকাশ্যে মন্তব্য না করলেও সময়ের প্রবাহতায় পরে ক্রিকেটার ও কোচদের কেউ কেউ পরিষ্কার জানিয়েছেন, ক্রিকেটাররা বিশ্বকাপ খেলার জন্য প্রস্তুত ছিলেন। কিন্তু সরকার ও বিসিবি না চাওয়ায় দল ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে যেতে পারেনি।

ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অ্যাডিশনাল সেক্রেটারি অ্যাডমিন একেএম ওয়ালিউল্লাহ, জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক হাবিবুল বাশার সুমন ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার ফয়সাল দাস্তগীরের সমন্বয়ে গঠিত ওই কমিটি দীর্ঘ কয়েক মাস তদন্ত শেষে আজ ১৫ সেপ্টেম্বর বিকেলে তাদের তদন্ত রিপোর্ট পেশ করেছে।

তখন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দেশ পরিচালনায় ছিল। সে সময় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ক্রীড়া উপদেষ্টা ছিলেন আসিফ নজরুল। আর বিসিবি সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন আমিনুল ইসলাম বুলবুল।

সময় গড়ানোর সাথে সাথে প্রতিক্রিয়া বাড়তে থাকে। ক্রিকেটের একটা প্রতিষ্ঠিত দল হয়েও বাংলাদেশ শুধু নিরাপত্তার কথা বলে বিশ্বকাপ খেলা থেকে বিরত থাকে।

ঘটনাটা ছোট নয়। একটা পূর্ণাঙ্গ টেস্ট খেলিয়ে দেশ হিসেবে বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে ভারত না যাওয়াকে নিয়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। শুরুতে পক্ষে-বিপক্ষে যুক্তি-তর্ক হলেও একটা সময় বেশির ভাগ ক্রিকেট অনুরাগীই একমত হন যে, অনেক কারণেই বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে ভারত যাওয়া উচিত ছিল।

বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের জীবন থেকে একটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ চলে গেল। সেখানে বাংলাদেশ অনুপস্থিত। ক্রিকেটীয় যুক্তি, ব্যাখ্যা, বিশ্লেষণ, ব্যবসায়-বাণিজ্য, বিপণন নানা দিক বিবেচনায় সে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ না খেলাটা বড় ধরনের ভুল ও নেতিবাচক সিদ্ধান্ত এবং একটা বড় ক্ষতি বলেই পরিগণিত হয়।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পর দেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বিএনপির নেতৃত্বে গণতান্ত্রিক সরকার দেশ পরিচালনার পর যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রী আমিনুল হক ঐ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়ার কারণ খুঁটিয়ে বের করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন এবং ৩ সদস্যের এক তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন।

আগেই জানা, আজ বিকেল ৩টায় এনএসসি ভবনে সংবাদ সম্মেলনে ওই তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ করা হবে। ক্রিকেট ও ক্রীড়া অনুরাগীরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় ছিলেন তদন্ত কমিটির রিপোর্টে কী উঠে আসে। কে বা কার ভুলে, অদূরদর্শিতায় বাংলাদেশ ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে যায়নি, তা জানতে মুখিয়ে ছিলেন সবাই।

শেষ পর্যন্ত তদন্ত কমিটির তদন্তে বেরিয়ে এসেছে মূলত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের একক ইচ্ছে ও সিদ্ধান্তেই বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে ভারত যায়নি।

তদন্ত কমিটির অন্যতম সদস্য ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অ্যাডিশনাল সেক্রেটারি অ্যাডমিন একেএম ওয়ালিউল্লাহ মঙ্গলবার সাংবাদিকদের জানান, ক্রীড়া মন্ত্রণালয় থেকে বিসিবিতে চিঠি পাঠিয়ে ভারত না যাওয়ার কথা জানানো হয়। যেহেতু তখন আসিফ নজরুল ইসলাম ক্রীড়া উপদেষ্টা ছিলেন, কাজেই সেটা তার নির্দেশ বলেই পরিগণিত হবে। আর বিসিবির সে সময়ের কমিটি তা মেনেই বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে দল পাঠানো থেকে বিরত থাকে।

শেষ পর্যন্ত তদন্ত কমিটির সদস্যরা সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের নাম উল্লেখ করলেও তদন্ত রিপোর্ট এবং সংবাদ সম্মেলনে কথোপকথনের বেশির ভাগ সময় তদন্ত কমিটির সদস্যরা সে অর্থে কারও ওপর দোষ চাপানো থেকে বিরত ছিলেন।

পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে তদন্ত কমিটির সদস্যরা স্বীকার করেছেন যে, ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্তটা ক্রীড়া মন্ত্রণালয় থেকেই নেওয়া এবং তৎকালীন ক্রীড়া উপদেষ্টার নির্দেশে সম্বলিত চিঠিই বিসিবিতে যায়।

প্রশ্ন ছিল, বিশ্বকাপ খেলতে ভারত না যাওয়ার কারণ অনুসন্ধান ও তদন্তে কারা দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন? জবাবে তদন্ত কমিটির সদস্যরা বলেন, আমরা বিভিন্ন ক্রিকেটার, বিসিবির বর্তমান সভাপতি তামিম ইকবাল, কয়েকজন সিনিয়র সাংবাদিকের সঙ্গে কথা বললেও বিসিবির সে সময়ের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল আর ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের সাথে বিভিন্ন সময় যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাইনি। তাদের সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তদন্ত কমিটির সদস্যরা জানান, তারা আইসিসির সংশ্লিষ্ট কর্তাদের সাথেও যোগাযোগ করেননি। তবে তদন্ত কমিটির তদন্তে বেরিয়ে এসেছে যে, ক্রিকেটাররা তৈরি ছিলেন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলার জন্য এবং তদন্ত কমিটি মনে করে অনেক যুক্তিতেই বাংলাদেশের উচিত ছিল বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া। কাজটি সঠিক হয়নি।

তাদের শেষ কথা, তদানীন্তন সরকার (অন্তর্বর্তীকালীন সরকার)-এর ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টার নির্দেশেই বিসিবিকে চিঠি দিয়ে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকার কথা জানানো হয়। বিসিবিও সে সরকারি নির্দেশ পালন করে।

সরাসরি কাউকে দোষারোপ করতে না চাইলেও তদন্ত কমিটি তাদের তদন্ত রিপোর্টে বেশ কিছু সুপারিশও করেছে। ক্রিকেটকে রাজনীতিমুক্ত রাখার সুপারিশ করা হয়েছে। বিসিবিকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে আরও স্বাধীনতা প্রদানের কথাও বলা হয়েছে।

টিআইএস
Advertisement
Loading...
Loading...
আরো দেখুন
সম্পাদক: ইকবাল সোবহান চৌধুরী
অবজারভার লিমিটেডের পক্ষে সম্পাদক কর্তৃক গ্লোব প্রিন্টার্স, ২৪/এ, নিউ ইস্কাটন রোড, রমনা, ঢাকা থেকে প্রকাশিত।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:আজিজ ভবন (৩য় তলা), ৯৩, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা (সি/এ), ঢাকা-১০০০।

ফোন: পিএবিএক্স- ৪১০৫৩০০১-০৬; বিজ্ঞাপন: ৪১০৫৩০১২; ০১৭৯৩৩১৭৮২৯, ০১৫৫০৭০৭২৯১, ই-মেইল: [email protected], ‍[email protected] অনলাইন: ৪১০৫৩০১৪; ০১৫৫০৭০৭২৯৭ ই-মেইল: [email protected] ০১৫৫০৭০৭২৯৬
🔝
Advertisement