হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনার পর জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও সাবেক সংসদ সদস্য সাকিব আল হাসানের মাগুরার বাড়িতে নতুন করে সংস্কারকাজ শুরু হয়েছে।
গত কয়েক দিন ধরে কেশব মোড় এলাকার দোতলা বাড়িটির বাইরের অংশে রঙের কাজ করছেন শ্রমিকেরা। হঠাৎ সংস্কারকাজ শুরু হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
সংস্কারকাজের সঙ্গে সাকিব আল হাসানের দেশে ফেরার কোনো সম্পর্ক আছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে বাড়িতে কাজ শুরুর পর থেকেই তার দেশে ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
গত ৬ আগস্ট রাতে সাকিবের বাড়ির প্রধান ফটকে আগুন দেওয়ার পাশাপাশি ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এতে বাড়িটির কয়েকটি জানালার কাচ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঘটনার প্রায় এক মাস পর ভবনটির সংস্কারকাজ শুরু হলো।
বর্তমানে শ্রমিকেরা ভবনের বাইরের দেয়ালে রঙ করছেন। তবে সংস্কারকাজ চলাকালে সাকিবের পরিবারের কোনো সদস্য বা পরিচিত কাউকে বাড়িতে দেখা যায়নি।
কাজে থাকা শ্রমিকেরা জানান, তারা শুধু ভবনের সংস্কারকাজ করছেন। সাকিব দেশে ফিরবেন কি না কিংবা বাড়িতে কেউ আসবেন কি না, সে বিষয়ে তারা কিছু জানেন না। রঙের কাজ শেষ হওয়ার পর হামলার সময় ক্ষতিগ্রস্ত সিঁড়িঘরের ভাঙা কাচ ও জানালার কিছু অংশও মেরামত করা হতে পারে বলে জানান তারা।
আগস্টের ওই হামলার বিষয়ে মাগুরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল্লাহ আল মামুন জানিয়েছিলেন, বাড়িটির কয়েকটি জানালার কাচ ভেঙে গেছে। তবে ঘটনায় কেউ আহত হননি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছিল, লোহার গেটের ওপর পেট্রল ঢেলে আগুন দেওয়া হয়। তবে পেট্রলবোমা হামলার কোনো আলামত পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছিল পুলিশ।
এদিকে আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) নেতাদের দেশে ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে বিভিন্ন আলোচনা চলছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ঘোষণা-সংক্রান্ত বিভিন্ন পোস্ট ছড়িয়ে পড়েছে। মাগুরার সাবেক সংসদ সদস্যসহ কয়েকজন নেতাও এ বিষয়ে পোস্ট করেছেন।
এমন পরিস্থিতিতে সাকিব আল হাসান দেশে ফিরবেন কি না, তা নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভক্তদের মধ্যে আলোচনা দেখা গেছে। তবে তার দেশে ফেরার বিষয়ে এখন পর্যন্ত নির্ভরযোগ্য কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
সাকিব আল হাসান ২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাগুরা-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত একটি হত্যা মামলায়ও তার নাম আসামির তালিকায় রয়েছে। ২০২৪ সালের ২৩ আগস্ট ঢাকার আদাবর থানায় দায়ের করা ওই মামলায় মোট ১৫৬ জনকে আসামি করা হয়। তালিকায় সাকিবের নাম রয়েছে ২৮ নম্বরে।
তবে বাড়ির সংস্কারকাজের সঙ্গে সাকিবের দেশে ফেরার কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীরাও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এসএফ