ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে বিয়ের অনুষ্ঠানে নাচ পরিবেশনের কথা বলে ডেকে নিয়ে দুই নারী নৃত্যশিল্পীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় করা মামলায় এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাতে ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে সরাইল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলাটি করা হয়।
মামলায় মো. রাকিব মিয়াকে প্রধান আসামি করে অজ্ঞাতনামা আরও চার-পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, ঘটনার পর অভিযান চালিয়ে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে তাঁর পরিচয় প্রকাশ করা হচ্ছে না।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী দুই নারী কুমিল্লার চান্দিনা এলাকার বাসিন্দা। তারা চুক্তির ভিত্তিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে নৃত্য পরিবেশন করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে যোগাযোগ করে সরাইলের শাহাবাজপুর এলাকায় একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে নাচ পরিবেশনের জন্য তাদের সঙ্গে চুক্তি করেন রাকিব।
চুক্তি অনুযায়ী, ১০ সেপ্টেম্বর বিকেলে নয় হাজার টাকা পারিশ্রমিকে তারা সরাইল বিশ্বরোড এলাকায় পৌঁছান। সেখান থেকে রাকিব ও তাঁর সহযোগীরা তাদের অটোরিকশায় করে শাহাবাজপুর এলাকায় নিয়ে যান। পরে বিয়ের অনুষ্ঠানে নেওয়ার কথা বলে একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকায় তোলা হয়। নদীর মাঝপথে যাওয়ার পর তাদের ওপর যৌন নির্যাতন চালানো হয় বলে মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে।
পরে রাত ৮টার দিকে ভুক্তভোগীদের নাসিরনগর উপজেলার ভুঁইয়া ঘাট এলাকায় নামিয়ে দিয়ে অভিযুক্তরা চলে যায়। সেখান থেকে তারা প্রথমে নাসিরনগর থানায় গেলে ঘটনাস্থল সরাইল থানা এলাকায় হওয়ায় সরাইল থানায় মামলা করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মনজুর কাদের ভুঁইয়া বলেন, ‘ঘটনায় একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্যদের দ্রুত গ্রেফতারের জন্য পুলিশ কাজ করছে।’
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সহকারী পুলিশ সুপার মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, মামলার ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্ত ও বাকি অভিযুক্তদের গ্রেফতারের স্বার্থে আপাতত গ্রেফতার ব্যক্তির পরিচয় গোপন রাখা হচ্ছে।
টিআইএস