বাণিজ্য বিভাজন ও ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে নিজেদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়াতে বৈশ্বিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর আরও জোরালো ভূমিকার দাবি জানিয়েছেন ব্রিকস জোটের অর্থমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরেরা।
গেল অগাস্টে ভারতের জয়পুরে এবং ১০ সেপ্টেম্বর মুম্বাইয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকের পর প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে অর্থমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরেরা বলেছেন, ব্রিকসের সদস্যসংখ্যা সম্প্রসারণ জোটটির বৈচিত্র্য ও প্রতিনিধিত্বকে আরও শক্তিশালী করেছে।
এ সময় তারা নিজেদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক ও আর্থিক সহযোগিতা জোরদারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন বলে জানিয়েছে এনডিটিভি।
২০২৬ সালে ভারতের সভাপতিত্বে ব্রিকস যখন অর্থ লেনদেন ব্যবস্থা, উন্নয়ন অর্থায়ন, অবকাঠামো, করব্যবস্থা, শুল্ক এবং আর্থিক স্থিতিশীলতাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিজেদের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক প্রভাবকে বাস্তব সহযোগিতায় রূপ দিতে চাইছে, ঠিক তখনই এই বিবৃতি এল।
জোটের সদস্য দেশগুলো হল- ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন, দক্ষিণ আফ্রিকা, মিশর, ইথিওপিয়া, ইরান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইন্দোনেশিয়া ও সৌদি আরব।
সম্প্রসারিত এ জোটটি বর্তমানে বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪৯ দশমিক ৫ শতাংশ, বৈশ্বিক জিডিপির ৪০ শতাংশ এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যের ২৬ শতাংশের প্রতিনিধিত্ব করছে।
ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আগে শুক্রবার ভারতে নয়া দিল্লিতে শুরু হয় ব্রিকস বিজনেস ফোরাম। সেখানে ব্রিকস নেতারাও যোগ দেন।
ফোরামের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধামন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বৈশ্বিক বাণিজ্য সচল রাখতে নিরাপদ সমুদ্রপথ, সরবরাহের রুট উন্মুক্ত রাখা এবং নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।
পাশাপাশি বাণিজ্য বাধা দূর করে ব্যবসার সুযোগ বাড়াতে ব্রিকস দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
মোদী বলেন, ভারত নৌ চলাচলের স্বাধীনতা এবং নাবিকদের নিরাপত্তার পক্ষে দৃঢ়ভাবে অবস্থান করছে। বৈশ্বিক বাণিজ্যের নির্বিঘ্ন চলাচলের জন্য নিরাপদ সমুদ্রপথ অপরিহার্য।
তিনি, “সমুদ্রপথ নিরাপদ, সরবরাহের রুট উন্মুক্ত এবং নাবিকরা নিরাপদ থাকলেই বৈশ্বিক বাণিজ্য এগিয়ে যেতে পারে।”
খবর: এনডিটিভি
টিআইএস