রাজশাহীর বাঘা উপজেলার পদ্মা নদীবেষ্টিত চকরাজাপুর ইউনিয়নের ১৫টি চরের মানুষ বন্যার পানিতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। নদীভাঙনে ইতোমধ্যে শতাধিক পরিবার গৃহহীন হয়েছে। নিরুপায় হয়ে অনেক পরিবার অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে। পানিবন্দি মানুষজন যাতায়াত, খাদ্য ও জীবিকার সংকটে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, চকরাজাপুর ইউনিয়নের দিয়াড়কাদিরপুর চরসহ আশপাশের ১৫টি চরের অধিকাংশ বাড়ির চারপাশে পানি উঠেছে। দিয়াড়কাদিরপুর চরে ২৩টি পরিবার বসবাস করে। বন্যার পানিতে তারা পুরোপুরি পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এক বাড়ি থেকে অন্য বাড়িতে যেতেও তাদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। প্রয়োজনের তাগিদে কেউ কেউ টিন দিয়ে তৈরি ছোট ডিঙি নৌকা ব্যবহার করছেন।
চরাঞ্চলে আশপাশে কোনো বাজার না থাকায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে দূরের বাজারে যেতে হয়। সেখানেও যাতায়াতের একমাত্র ভরসা নৌকা। চরাঞ্চলের অধিকাংশ মানুষের আয়ের প্রধান উৎস কৃষিকাজ। কিন্তু বন্যার পানিতে প্রায় ৮০ শতাংশ ফসলি জমি তলিয়ে যাওয়ায় কৃষিকাজ বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে অনেকেই বাধ্য হয়ে জাল দিয়ে মাছ ধরে বাজারে বিক্রি করে সংসার চালাচ্ছেন।
পদ্মা নদীর ১৫টি চরে প্রায় সাড়ে ২০ হাজার মানুষের বসবাস। পরিবার রয়েছে প্রায় ৩ হাজার ৬০০টি। দিয়াড়কাদিরপুর চরের অধিকাংশ পরিবারই অন্যের জমি বাৎসরিক ভাড়া নিয়ে বাড়ি তৈরি করে বসবাস করে। স্থানীয়দের ভাষ্য, ২০ কাঠা জমি এক বছরের জন্য ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত ভাড়া নিতে হয়।
দিয়াড়কাদিরপুর চরের বাসিন্দা সাবিরুল ইসলাম বলেন, “আমি স্ত্রী ও দুই ছেলে নিয়ে অন্যের কাছ থেকে জমি ভাড়া নিয়ে দুটি ঘর তৈরি করে বসবাস করছি। পদ্মার পানি বাড়ায় ঘরবাড়ি ও গরু-ছাগল নিয়ে বিপদে পড়েছি।”
তার স্ত্রী সালমা বেগম বলেন, “এখন কৃষিকাজ নেই। মাঝে মাঝে জাল দিয়ে মাছ ধরে বাজারে বিক্রি করি। যে টাকা পাই, তা দিয়েই কোনোরকমে সংসার চলছে।”
চকরাজাপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য জালাল উদ্দিন বলেন, “দিয়াড়কাদিরপুর, টিকটিকিপাড়া চরসহ চকরাজাপুর ও কালিদাসখালির কিছু অংশ নিয়ে ১ নম্বর ওয়ার্ড গঠিত। এ ওয়ার্ডে তিন শতাধিক পরিবার ও ১ হাজার ৩৫ জন ভোটার রয়েছে। চরাঞ্চলের এ ওয়ার্ডটি নিচু হওয়ায় অধিকাংশ ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে।”
এদিকে নদীভাঙনের কারণে পলাশি ফতেপুর, চৌমাদিয়া ও আতারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। চকরাজাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ও পদ্মার ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে।
চকরাজাপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আজিযুল আযম বলেন, “পদ্মার চরে প্রায় ৩ হাজার ৬০০ পরিবার বসবাস করে। বর্তমানে তারা পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে। অধিকাংশ বাড়ির পাশে পানি উঠে গেছে। প্রায় ৮০ শতাংশ ফসলি জমি পানির নিচে। নদীভাঙনে শতাধিক পরিবার গৃহহীন হয়েছে। তারা অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে। তবে গরু-ছাগল নিয়ে তাদের মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে।”
বাঘা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তকী ফয়সাল তালুকদার বলেন, “নদীভাঙন ও বন্যার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। পানিবন্দি মানুষের সহযোগিতার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।”
এএইচ/আরএন