রাজশাহীর বাঘা উপজেলার পদ্মা নদীবেষ্টিত চরাঞ্চলে পানি বাড়তে থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন হাজারো মানুষ। ঘরে খাবার থাকলেও পানি ঢুকে যাওয়ায় রান্না করার জায়গা নেই। ফলে অনেক পরিবারকে না খেয়েই দিন কাটাতে হচ্ছে।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টার দিকে কালিদাসখালী চরে দেখা যায়, ৭৫ বছর বয়সী আকলিমা বেগম ঘরের বাইরে পানির মধ্যে রাখা একটি চৌকির ওপর দুপুরের খাবার রান্নার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ঘরের চারপাশ পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় রান্নার জন্য অন্য কোনো জায়গা না থাকায় বাধ্য হয়েই পানির মধ্যে চৌকির ওপর রান্নার ব্যবস্থা করেছেন তিনি।
আকলিমা বেগমের মতো একই পরিস্থিতিতে রয়েছেন চরাঞ্চলের আরও অনেক পরিবার। রান্না করার নিরাপদ জায়গা না থাকায় কেউ কেউ একবেলা খাবার খেয়ে, আবার কেউ না খেয়েই দিন পার করছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাঘা উপজেলার পদ্মার মধ্যে অবস্থিত চকরাজাপুর ইউনিয়নের চকরাজাপুর, কালিদাসখালী, লক্ষ্মীনগর, দাদপুর, নিচ পলাশি, পলাশি ফতেপুর, আতারপাড়া, চৌমাদিয়া, দিয়ারকাদিরপুরসহ অন্তত ১৫টি চরে প্রায় ১ হাজার ২০০ পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এসব চরে প্রায় ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন।
এদিকে বন্যার পাশাপাশি নদীভাঙনও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। পলাশি ফতেপুর, চৌমাদিয়া ও আতারপাড়া এলাকার প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং একটি মসজিদ ইতোমধ্যে পদ্মার ভাঙনে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এসব এলাকার মানুষ অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন।
আতারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলাম বলেন, “পদ্মা ভাঙতে ভাঙতে শেষ পর্যন্ত স্কুলটি নদীগর্ভে চলে গেল। আজ স্কুল ভালো দেখে গেলাম, কাল এসে দেখতে হয়েছে স্কুল নেই। একাধিকবার স্থানান্তর করতে করতে শেষ পর্যন্ত বিদ্যালয়টি বিলীন হয়ে গেল।” বিদ্যালয়টিতে ৮৫ জন শিক্ষার্থী ও তিনজন শিক্ষক ছিলেন বলেও জানান তিনি।
চৌমাদিয়া চরের বাসিন্দা সোলেমান মোল্লা বলেন, পদ্মায় পানি ক্রমাগত বাড়ছে। এতে গবাদিপশু নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন চরাঞ্চলের মানুষ। পাশাপাশি নদীভাঙনের কারণে ১৫টি চরের মানুষই ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন।
চৌমাদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সোহেল রানা বলেন, “বিদ্যালয়ে যাওয়ার মতো কোনো পরিস্থিতি নেই। তাই পাঠদান বন্ধ রাখা হয়েছে।” বিদ্যালয়টিতে ৯১ জন শিক্ষার্থী ও তিনজন শিক্ষক রয়েছেন বলে জানান তিনি।
বাঘা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তকী ফয়সাল তালুকদার বলেন, নদীভাঙন ও বন্যার পরিস্থিতির বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। পানিবন্দি মানুষের সহযোগিতার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
এএইচ/আরএন