মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের বিস্তার ও গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে জাহাজ চলাচল নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে আবারও বাড়ছে অপরিশোধিত তেলের দাম। শুক্রবার সপ্তাহের শেষ দিনে ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআই, দুই বেঞ্চমার্কই ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে অবস্থান করছে।
এদিন ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচার্সের দাম ১ দশমিক ০৫ ডলার বেড়ে ১০৮ দশমিক ৬৮ ডলার হয়েছে। আর যুক্তরাষ্ট্রের বেঞ্চমার্ক ডব্লিউটিআইয়ের দাম ৯৫ সেন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০৩ দশমিক ৪৫ ডলার প্রতি ব্যারেলে। আগের দিন দুই সূচকের দামই ৬ শতাংশের বেশি বেড়েছিল।
চলতি সপ্তাহে তেলের বাজারে বড় ধরনের উত্থান দেখা গেছে। সপ্তাহের হিসাবে ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআইয়ের দাম প্রায় ১৩ শতাংশ বেড়েছে। গত ১৭ জুলাইয়ের পর এটিই দুই সূচকের সবচেয়ে বড় সাপ্তাহিক মূল্যবৃদ্ধি।
বাজারে উদ্বেগের বড় কারণ হয়ে উঠেছে লোহিত সাগর ও হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি। বৃহস্পতিবার ইরানের ঘনিষ্ঠ হুথিরা ইয়েমেনের মোখা বন্দরের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ঝুঁকি নতুন করে বেড়েছে। অন্যদিকে হরমুজ প্রণালিতেও জাহাজ চলাচল সীমিত রয়েছে।
এর সঙ্গে যোগ হয়েছে উপসাগরীয় অঞ্চলে ট্যাংকারে হামলার ঘটনা এবং ইয়েমেন থেকে সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, সংঘাতের পরিধি বাড়লে হরমুজ প্রণালির বাইরেও তেল সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন দেখা দিতে পারে।
আইজি-এর বিশ্লেষক টনি সাইকামোরের মতে, পরিস্থিতি আরও অবনতি হলে তেলের দাম মার্চের শুরুর দিকের সর্বোচ্চ পর্যায়ের দিকে যেতে পারে। তখন ডব্লিউটিআইয়ের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১৯ দশমিক ৪৮ ডলার পর্যন্ত উঠেছিল।
তবে দাম কতটা বাড়বে, তা অনেকটাই নির্ভর করবে চীনের ওপর। বিশ্বের সবচেয়ে বড় অপরিশোধিত তেল আমদানিকারক দেশটি আমদানি অব্যাহত রাখলে সরবরাহ সংকটের প্রভাব আরও বাড়তে পারে। ফলে আগামী দিনগুলোতে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আরও চড়ার ঝুঁকি থাকছে।
এফএস