আগামীকাল শনিবার ভারতের নয়াদিল্লিতে শুরু হচ্ছে ব্রিকসের ১৮তম শীর্ষ সম্মেলন। দুই দিনব্যাপী এ সম্মেলন চলবে ১৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। এবারের আয়োজক দেশ ভারত। নয়াদিল্লির ভারত মণ্ডপমে অনুষ্ঠিত হবে বিশ্ব অর্থনীতি ও ভূরাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জোটের শীর্ষ বৈঠক।
২০২৬ সালে ব্রিকসের সভাপতিত্ব করছে ভারত। দেশটির সভাপতিত্বের মূল প্রতিপাদ্য ‘সহনশীলতা, উদ্ভাবন, সহযোগিতা ও টেকসই উন্নয়নের ভিত্তি গড়ে তোলা’ প্রতিপাদ্যের আলোকে অর্থনৈতিক সহযোগিতা, উদ্ভাবন, টেকসই উন্নয়ন এবং বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা জোরদারের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে।
সম্মেলনে ব্রিকসের সদস্য দেশগুলোর শীর্ষ নেতাদের পাশাপাশি অংশীদার দেশ ও আমন্ত্রিত প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন। চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনসহ গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের উপস্থিতি এবারের সম্মেলনকে বিশেষ তাৎপর্য দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট, বৈশ্বিক অর্থনীতি, বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিস্থিতিও আলোচনায় গুরুত্ব পেতে পারে।
বর্তমানে ব্রিকসের সদস্য ১১টি দেশ।ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন, দক্ষিণ আফ্রিকা, মিসর, ইথিওপিয়া, ইরান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইন্দোনেশিয়া ও সৌদি আরব। সম্প্রসারণের পর জোটটির বৈশ্বিক অর্থনীতি ও বাণিজ্যে প্রভাব আরও বেড়েছে। ভারত সরকারের তথ্য অনুযায়ী, সদস্য দেশগুলো সম্মিলিতভাবে বিশ্বের প্রায় ৪৯ দশমিক ৫ শতাংশ জনসংখ্যা, ৪০ শতাংশ জিডিপি এবং ২৬ শতাংশ বৈশ্বিক বাণিজ্যের প্রতিনিধিত্ব করে।
এদিকে এবারের ব্রিকস সম্মেলনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে কয়েক দিন ধরে আলোচনা চললেও শেষ পর্যন্ত ঢাকা থেকে কোনো প্রতিনিধি যাচ্ছে না। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নয়, বিমসটেকের বর্তমান চেয়ার হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। ফলে ব্রিকস সম্মেলনে বাংলাদেশের কোনো সরকারি প্রতিনিধি পাঠানোর সুযোগ নেই বলে তিনি জানিয়েছেন।
ভারতের জন্যও এবারের সম্মেলন বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। ২০২৬ সালে চতুর্থবারের মতো ব্রিকসের সভাপতিত্ব করছে দেশটি। একই সঙ্গে চলতি বছর ব্রিকস প্রতিষ্ঠার ২০ বছর পূর্ণ হচ্ছে। সম্মেলনের মধ্য দিয়ে জোটের অভ্যন্তরীণ সহযোগিতা আরও জোরদারের পাশাপাশি বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক বিভিন্ন সংকটে অভিন্ন অবস্থান তৈরির চেষ্টা থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এফএস