পার্বত্য অঞ্চলের ক্রীড়াঙ্গনে নতুন উদ্দীপনা ছড়িয়ে পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটিতে আনুষ্ঠানিকভাবে পর্দা উঠল ‘রাঙ্গামাটি চ্যাম্পিয়ন্স ফুটবল লিগ’-এর।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) জেলার ঐতিহ্যবাহী চিংহ্লা মং মারী স্টেডিয়ামে টুর্নামেন্টের বর্ণাঢ্য উদ্বোধন করা হয়। জেলার ১০টি উপজেলার অংশগ্রহণকারী দলগুলোর তুমুল লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে পাহাড়ের তরুণদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে এই আসর বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
চিংহ্লা মং মারী স্টেডিয়ামে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে টুর্নামেন্টের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন রাঙ্গামাটি রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাজমুল হক। খেলা শুরুর আগে স্টেডিয়ামজুড়ে হাজারো ক্রীড়ামোদী দর্শকের উপস্থিতি লক্ষ করা যায়। টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হয় বরকল উপজেলা ও লংগদু উপজেলা ফুটবল দল।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান দীপন তালুকদার দীপু, জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী, পুলিশ সুপার আব্দুর রকিব, রাঙ্গামাটি পৌরসভার প্রশাসক মো. মোবারক হোসেন এবং রাঙ্গামাটি জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব সাইফুল ইসলাম ভূট্টো। এ ছাড়া জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা আব্দুল আলীমসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের উচ্চপদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
খেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে রাঙ্গামাটি রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাজমুল হক পাহাড়ে শান্তি ও সামাজিক উন্নয়নে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ভূমিকা তুলে ধরেন। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাহাড়ের আঞ্চলিক সংগঠন ইউপিডিএফের মুখপাত্র নেতা মাইকেল চাকমার দেওয়া একটি বক্তব্যের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, “বাংলাদেশ সেনাবাহিনী শুধু ক্রীড়া উন্নয়নই নয়, এ অঞ্চলের মানুষের সার্বিক কল্যাণে সার্বক্ষণিক কাজ করে যাচ্ছে। স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ, ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পেইন, চোখের ছানি অপারেশন, নারীদের স্বাবলম্বী করতে সেলাই প্রশিক্ষণ এবং মেকানিক্যাল ট্রেনিংয়ের মতো গঠনমূলক কাজ আমরা চালিয়ে যাচ্ছি, যেন স্থানীয়রা নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারেন।”
পাহাড়ের আঞ্চলিক সংগঠন ইউপিডিএফের মুখপাত্রের বক্তব্যের জবাবে তিনি বলেন, “সেনাবাহিনী এই দেশকে, এই অঞ্চলকে এবং এখানকার মানুষকে গভীরভাবে ভালোবাসে। যারা জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছেন, তাদের সেই দিন আর নেই। পার্বত্য অঞ্চলের মানুষ এখন অনেক সচেতন।”
তিনি আরও বলেন, “সম্প্রতি অতিবৃষ্টি ও ভূমিধসে সাধারণ মানুষ যখন পানিবন্দী ও বিপদে পড়েছিল, তখন তথাকথিত সন্ত্রাসী দলগুলোকে কোনো সহায়তায় এগিয়ে আসতে দেখা যায়নি। অথচ তারা রাঙ্গামাটি অঞ্চল থেকে প্রতি মাসে ১৫ থেকে ২০ কোটি টাকা চাঁদা আদায় করে। জনগণের সেই অর্থ বিপদের সময় তাদের কল্যাণে খরচ করা হয়নি।”
জনগণকে বিভ্রান্ত না করার আহ্বান জানিয়ে রিজিয়ন কমান্ডার সতর্ক করে বলেন, সঠিক ও ভুলের পার্থক্য পাহাড়ের মানুষ ভালোভাবেই বোঝে। অপশক্তি ও সন্ত্রাসীদের প্রতিহত করতে সেনাবাহিনীর প্রয়োজন হবে না; বরং সচেতন এলাকাবাসীই তাদের সঠিক জবাব দেবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
পাহাড়ে সম্প্রীতি, ক্রীড়ামনস্কতা বৃদ্ধি এবং সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এমন ফুটবল আয়োজন পুরো রাঙ্গামাটিতে নতুন জোয়ার সৃষ্টি করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এসআই/আরএন