বকেয়া মজুরি পরিশোধের দাবিতে দুই দিন ধরে কাজ বন্ধ রেখে আন্দোলনে নেমেছেন মৌলভীবাজারের মদনমোহনপুর ও চাম্পারায় চা-বাগানের শ্রমিকেরা। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) শ্রমিকেরা পূর্ণদিবস কর্মবিরতি পালন করে বাগান এলাকায় মানববন্ধন করেছেন। বকেয়া মজুরি পরিশোধ না হওয়া পর্যন্ত কর্মবিরতি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তাঁরা।
এদিন সকাল থেকে বাগান দুটির স্বাভাবিক কার্যক্রম অনেকটা স্থবির হয়ে পড়ে। পরে নারী-পুরুষ শ্রমিকেরা একত্র হয়ে মানববন্ধনে অংশ নেন। এ সময় তাঁদের হাতে থাকা ব্যানারে লেখা ছিল—‘বকেয়া মজুরির দাবিতে পূর্ণদিবস কর্মবিরতি ও মানববন্ধন’ এবং ‘বকেয়া মজুরি পরিশোধ না হওয়া পর্যন্ত বাগান পূর্ণ কর্মবিরতিতে থাকবে।’
আন্দোলনরত শ্রমিকেরা বলেন, চা-বাগানে কাজ করে পাওয়া মজুরির ওপরই তাঁদের অধিকাংশ পরিবারের দৈনন্দিন জীবন-জীবিকা নির্ভরশীল। নিয়মিত কাজ করেও সময়মতো মজুরি না পাওয়ায় তাঁরা চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনা, সন্তানদের পড়াশোনা, চিকিৎসা ও অন্যান্য পারিবারিক ব্যয় মেটাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাঁদের।
শ্রমিকদের মতে, তাঁদের দাবি কোনো অতিরিক্ত সুবিধা নয়; তাঁরা নিজেদের শ্রমের ন্যায্য পাওনা চান। দীর্ঘদিনের বকেয়া মজুরি পরিশোধ না করে স্বাভাবিকভাবে কাজ চালিয়ে যাওয়া তাঁদের পক্ষে সম্ভব নয়। তাই দ্রুত বকেয়া মজুরি পরিশোধ না হওয়া পর্যন্ত কর্মবিরতি অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁরা।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া শ্রমিকেরা বলেন, ‘আমরা নিয়মিত বাগানে কাজ করি। কিন্তু সময়মতো মজুরি না পেলে পরিবার নিয়ে চলা কঠিন হয়ে পড়ে। বাজারে বাকিতে পণ্য নিতে হচ্ছে, সন্তানদের প্রয়োজন মেটানো যাচ্ছে না। আমরা কারও কাছে অতিরিক্ত কিছু চাই না, শুধু আমাদের পরিশ্রমের পাওনা মজুরি চাই।’
তাঁরা আরও বলেন, বকেয়া মজুরি পরিশোধে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ না নিলে শ্রমিকদের দুর্ভোগ আরও বাড়বে। এ অবস্থায় বাগান কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের প্রতি দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান এবং বকেয়া মজুরি পরিশোধের দাবি জানান তাঁরা।
এদিকে, চাম্পারায় চা-বাগানের ব্যবস্থাপক রাহেল রানা শ্রমিকদের দুই দিন ধরে কর্মবিরতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমার বাগানসহ আশপাশের ন্যাশনাল টি কোম্পানির সব ব্যবস্থাপক ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ একসঙ্গে বসে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছি। আশা করছি, দ্রুত সময়ের মধ্যেই এর সমাধান হবে।’
এসএস/আরএন