বিশ্বের ৭০০ শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে পর্যায়ক্রমে কাজ করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন ড. মোস্তফা হাজেরা ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও এমএইচ গ্লোবাল গ্রুপের চেয়ারম্যান ক্যাপ্টেন এ. কে. এম. গোলাম কিবরিয়া। সম্প্রতি লন্ডনের ঐতিহাসিক গিল্ডহলে অনুষ্ঠিত পিআইইওয়ানিয়ার অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬-এ বৈশ্বিক শিক্ষা খাতের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের সামনে তিনি এ পরিকল্পনা তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, গবেষক, শিক্ষাবিদ ও উদ্ভাবকেরা উপস্থিত ছিলেন। যেখানে ক্যাপ্টেন কিবরিয়া তাঁর ‘পাঁচ শূন্যের বৈশ্বিক দর্শন’ এবং আগামী ১০০ বছরের জন্য মানবিক সমতা ও উন্নয়নকেন্দ্রিক একটি সভ্যতার রূপরেখা উপস্থাপন করেন।
উপস্থিত শিক্ষাবিদদের উদ্দেশে তিনি প্রশ্ন রাখেন, ‘আজ থেকে ১০০ বছর পর মানুষ কি জাদুঘরে দাঁড়িয়ে আজকের দারিদ্র্য ও মানবিক সংকটের ছবি দেখে বিস্মিত হয়ে প্রশ্ন করবে- মানুষ কি সত্যিই একসময় এভাবে বেঁচে থাকত?’
তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশকে মানুষের মর্যাদা, সমতা ও জীবনমান উন্নয়নের কাজে লাগাতে হবে। প্রযুক্তিগত অগ্রগতির সুফল যেন সমাজের সব মানুষের কাছে পৌঁছায়, সে লক্ষ্যেই শিক্ষা ও গবেষণাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে ড. মোস্তফা হাজেরা ফাউন্ডেশন পর্যায়ক্রমে বিশ্বের ৭০০টি শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে কাজ করার পরিকল্পনা নিয়েছে বলেন তিনি। তাঁর মতে, বিশ্ববিদ্যালয় শুধু জ্ঞান অর্জনের প্রতিষ্ঠান নয়; সামাজিক পরিবর্তন ও মানবিক উন্নয়নের ক্ষেত্রেও এসব প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
এই বৈশ্বিক উদ্যোগের মূল ভাবনা হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে- ‘৭০০ বিশ্ববিদ্যালয়, পাঁচ শূন্য, এক মানবতা ও এক শতবর্ষী স্বপ্ন’।
ক্যাপ্টেন কিবরিয়া বলেন, দারিদ্র্য, গৃহহীনতা ও নিরক্ষরতার মতো বর্তমান বিশ্বের নানা মানবিক সংকটকে ভবিষ্যতের ইতিহাসে পরিণত করতে হলে এখন থেকেই সম্মিলিতভাবে কাজ শুরু করতে হবে। এ ক্ষেত্রে শিক্ষা, প্রযুক্তি ও বৈশ্বিক সহযোগিতাকে প্রধান হাতিয়ার হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
-টিএস