সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে উত্তাল মেঘনা-তেঁতুলিয়ার ডেঞ্জার জোনে অভ্যন্তরীণ ও দূরপাল্লার আন্তঃরুটে চলছে ছোট ছোট লঞ্চ-ট্রলার। এসব নিষিদ্ধ নৌযান একদিকে যেমন দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি করছে, অন্যদিকে যাত্রীদের জীবনও ঝুঁকির মুখে পড়ছে। অবৈধভাবে চলাচলকারী এসব নৌযানের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় প্রশাসনের কোনো নিয়মনীতি মানছেন না নৌযান মালিকরা।
বিআইডব্লিউটিএ সূত্রে জানা যায়, নৌ-দুর্ঘটনা রোধে সরকার প্রতিবছর ১৫ মার্চ থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত আট মাস সময়কে মেঘনা-তেঁতুলিয়ার ডেঞ্জার জোন হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এ সময় নদী ও সাগর উত্তাল থাকায় সি-ট্রাক সার্ভিস ছাড়া অন্য সব ছোট নৌযান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করে সরকার।
স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, বিআইডব্লিউটিএ ও স্থানীয় প্রশাসন ডেঞ্জার জোন ঘোষণা দিয়েই তাদের দায়িত্ব শেষ করেছে। কখনো এসব নিষিদ্ধ নৌযানের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করতে দেখা যায়নি।
সরকারি সি-ট্রাক সার্ভিস ছাড়া ডেঞ্জার জোনের এসব রুটে চলাচলকারী ছোট নৌযানের কারণে যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির আশঙ্কা করা হলেও বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ থাকছে নিশ্চুপ। অন্যদিকে সরকারিভাবে বিকল্প যান না থাকায় অনেকটা বাধ্য হয়েই এসব নৌযানে যাতায়াত করছেন যাত্রীরা।
রবি ও সোমবার সরেজমিনে বোরহানউদ্দিন উপজেলার হাকিমউদ্দিনসহ কয়েকটি নৌঘাটে গিয়ে এমন দৃশ্য দেখা গেছে। হাকিমউদ্দিন ঘাটে গিয়ে দেখা গেছে, ৬-৭টি মাছ ধরার ট্রলারে একদিকে মালামাল তোলা হচ্ছে, অন্যদিকে যাত্রীরা উঠছেন। অতিরিক্ত মালামাল ও যাত্রী মিলে ধারণক্ষমতার ৫-৭ গুণ বেশি বোঝাই করা হচ্ছে ট্রলারগুলোতে। কিন্তু ততক্ষণে নদী উত্তাল হয়ে উঠছিল। আর এই উত্তাল মেঘনায় ডেঞ্জার জোনের মধ্যেই ট্রলারগুলো ছেড়ে যাচ্ছে বিভিন্ন চরের উদ্দেশে।
সরকার ঘাটগুলোতে ইজারা বসিয়ে রাজস্ব আয় করলেও নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারী এসব নৌযানের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না—এমন অভিযোগ যাত্রীদের। প্রতিদিন অতিরিক্ত মালামাল ও যাত্রী বোঝাই করে ছোট ছোট ট্রলার চলাচলের বিষয়ে প্রতিবাদ করেও কোনো লাভ হয় না বলে জানান তারা।
অন্যদিকে যাত্রীরা জানান, বিকল্প নৌযান না থাকায় তারা এসব ট্রলারে যাতায়াত করছেন।
ভোলা বিআইডব্লিউটিএর সহকারী পরিচালক নির্মল কুমার রায় বলেন, অবৈধভাবে চলাচলকারী এসব লঞ্চ-ট্রলারের চলাচলের কোনো অনুমতি নেই। তারপরও কেউ যদি আইন ভঙ্গ করেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়াও বিআইডব্লিউটিএর ট্রাফিক বিভাগের কর্মকর্তারা বিষয়টির ওপর নজরদারি রাখছেন।
আরডি/আরএন