ENGLISH EPAPER 📍 ঢাকা 📅 শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩
শিরোনাম
Advertisement
সাভারে বোমা উদ্ধারে নব্য জেএমবির চক্র, মিলছে একাধিক ঘটনার যোগসূত্র
✎ অবজারভার অনলাইন ডেস্ক
⏲ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬, ৬:১৮ পিএম আপডেট: ১৪.০৮.২০২৬ ৬:৩৯ পিএম
সংগৃহীত ছবি
X

সংগৃহীত ছবি

সাভারে ধারাবাহিকভাবে বোমা ও বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনায় নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন নব্য জেএমবির একটি চক্রের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে নতুন তথ্য পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, চক্রটির সদস্যরা নিজেদের মধ্যে যোগাযোগের ক্ষেত্রে প্রচলিত যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করতেন না। এর পরিবর্তে তারা একটি অপ্রচলিত ওয়েবসাইটের মাধ্যমে যোগাযোগ করতেন। পাশাপাশি অর্থ লেনদেনের জন্যও তারা ব্যবহার করতেন বিশেষ একটি অ্যাপ।

সম্প্রতি সাভারের হেমায়েতপুর থেকে গ্রেপ্তার নব্য জেএমবির সদস্য মোহাম্মদ আরিফকে জিজ্ঞাসাবাদে এসব তথ্য পাওয়া গেছে বলে তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সাভারের দক্ষিণ শ্যামপুরের একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ১১টি পাইপবোমাসহ বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়। এর পরদিন সাধাপুর এলাকায় একটি মসজিদের মাঠ থেকে উদ্ধার করা হয় একটি ‘প্রেশার কুকার’ বোমা।

তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য, জিজ্ঞাসাবাদে আরিফ জানিয়েছেন, নব্য জেএমবির সদস্যরা নিজেদের মধ্যে যোগাযোগের জন্য ‘প্রটেক্টেড টেক্সট’ বা ‘পিটি’ নামে একটি ওয়েবসাইট ব্যবহার করতেন। আর্থিক লেনদেনের জন্য তাঁরা ‘ইলিমেন্ট’ নামের একটি অ্যাপ ব্যবহার করতেন। এসব যোগাযোগ ও লেনদেনের মাধ্যমে চক্রের সদস্যদের মধ্যে সমন্বয় করা হতো বলে তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন।

সিটিটিসির একটি সূত্র বলছে, সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনায় নব্য জেএমবির যেসব সদস্যের নাম এসেছে, তাঁদের চলাফেরার ধরনেও মিল পাওয়া যাচ্ছে। তাঁরা সাধারণত পিঠে ব্যাগ নিয়ে চলাফেরা করতেন। ওই ব্যাগে বোমা, অস্ত্র, ছুরি ও চাপাতি রাখা হতো। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তল্লাশির মুখে পড়লে এসব অস্ত্র বা বিস্ফোরক ব্যবহার করে হামলা চালিয়ে পালিয়ে যাওয়ার কৌশল তাঁরা অনুসরণ করতেন বলে তদন্তকারীদের ধারণা।

গত মঙ্গলবার দুপুরে সাভারের হেমায়েতপুর এলাকা থেকে মোহাম্মদ আরিফকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাঁর সঙ্গে থাকা একটি ব্যাগ তল্লাশি করে পাঁচটি বোমা এবং ছুরিসদৃশ তিনটি বোমা উদ্ধার করা হয়। পুলিশের ভাষ্য, উদ্ধার হওয়া পাঁচটি বোমাই জিআই পাইপের মধ্যে তৈরি করা হয়েছিল। এ ছাড়া বোমা তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জামও তাঁর কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়।

আরিফকে গ্রেপ্তারের পর তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই রাতেই সাভারের দক্ষিণ শ্যামপুর এলাকায় একটি তিনতলা বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। সেখানে ১১টি পাইপবোমা বা আইইডি এবং বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরকদ্রব্য উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় সাভার থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করা হয়। মামলায় আরিফসহ ছয়জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

সিটিটিসির কর্মকর্তারা বলছেন, ওই বাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া বিস্ফোরকদ্রব্যের মধ্যে কয়েকটি তাঁদের কাছে নতুন ধরনের বলে মনে হয়েছে। সেগুলোর ধরন ও উপাদান শনাক্ত করার জন্য রাসায়নিক পরীক্ষা করা হচ্ছে। পরীক্ষার ফল পাওয়ার পর এসব বিস্ফোরক কীভাবে এবং কোন উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হচ্ছিল, সে বিষয়ে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।

আরিফকে গ্রেপ্তারের পরদিন বুধবার (১২ আগস্ট) সাভারের সাধাপুর এলাকায় একটি মসজিদের মাঠে নীল রঙের একটি প্লাস্টিকের ড্রাম থেকে স্কচটেপে মোড়ানো অবস্থায় আরেকটি বোমা উদ্ধার করা হয়। পরে ঢাকার সিটিটিসির বোমা নিষ্ক্রিয়কারী ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে সেটি নিষ্ক্রিয় করে। এ ঘটনায়ও সাভার থানায় মামলা হয়েছে।

সাভার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম বলেন, মোহাম্মদ আরিফকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালত ছয় দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। তবে মামলাটি অ্যান্টিটেররিজম ইউনিটে হস্তান্তর করা হয়েছে। আসামিসহ মামলার নথিপত্রও ওই ইউনিটের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

তদন্তকারীরা বলছেন, শুধু সাভারে উদ্ধার হওয়া বোমা নয়, সাম্প্রতিক আরও কয়েকটি ঘটনায় উদ্ধার হওয়া বিস্ফোরকের মধ্যেও মিল পাওয়া গেছে। মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে একটি ছাতার ভেতর থেকে উদ্ধার হওয়া বোমা এবং আশুলিয়ার একটি মুদিদোকান থেকে উদ্ধার হওয়া ‘প্রেশার কুকার’ বোমার উপকরণ বিশ্লেষণ করে একই ধরনের বিস্ফোরকদ্রব্য, বিয়ারিং বল ও সার্কিট সুইচ ব্যবহারের তথ্য পাওয়া গেছে।

তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, এসব বোমায় ট্রাই-অ্যাসিটোন ট্রাইপার-অক্সাইড (টিএটিপি) নামের একটি বিস্ফোরকদ্রব্য ব্যবহারের তথ্য পাওয়া গেছে। এটি অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় তাপ, ঘর্ষণ, আঘাত বা নড়াচড়ার কারণে বিস্ফোরণের ঝুঁকি রয়েছে। এ কারণে উদ্ধার হওয়া বোমা ও বিস্ফোরকের ধরন নির্ধারণে তদন্তকারীরা বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছেন।

একাধিক ঘটনায় একই ধরনের বিস্ফোরক ও উপকরণ ব্যবহারের বিষয়টি তদন্তকারীদের নজরে এসেছে। তাঁদের ধারণা, ঘটনাগুলোর মধ্যে সাংগঠনিক যোগাযোগ বা পরিকল্পিত যোগসূত্র থাকতে পারে। সেই যোগসূত্রের পাশাপাশি এসব বিস্ফোরক কোথা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে এবং কারা এগুলো তৈরির সঙ্গে জড়িত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

গত ২১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর কুতুবখালী এলাকায় তল্লাশিচৌকিতে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনাটিও নতুন করে তদন্তের আওতায় এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ওই ঘটনায় জড়িত একজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য, রাকিব নামের এক যুবক ওই ঘটনায় এক পুলিশ সদস্যকে ছুরি দিয়ে আঘাত করেছিলেন। তাঁকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের একটি মাদরাসায় ভয়াবহ বিস্ফোরণের পর দেশের বিভিন্ন এলাকায় আরও অন্তত ১০টি বোমা ও বিস্ফোরক-সংশ্লিষ্ট ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় নব্য জেএমবির সদস্যদের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া যাচ্ছে বলে সিটিটিসির একটি সূত্র জানিয়েছে।

তদন্তকারীদের কাছে থাকা তথ্য অনুযায়ী, ওই ঘটনাগুলোর প্রতিটিতে এই পাঁচজনের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে। তাঁরা হলেন—মামুন ওরফে ‘বোমারু’ মামুন, শেখ আল আমিন, মোহাম্মদ আরিফ, রাকিব ও বাপ্পী। তাঁদের মধ্যে শেখ আল আমিন ও মোহাম্মদ আরিফকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রাকিব ও বাপ্পী পলাতক রয়েছেন।

তদন্তকারীদের ধারণা, পলাতক মামুন ওরফে ‘বোমারু’ মামুন এই চক্রের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তাঁকে গ্রেপ্তার করা গেলে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর পেছনে থাকা নেটওয়ার্ক, সদস্যদের মধ্যে যোগাযোগের ধরন এবং বিস্ফোরক সংগ্রহ ও সরবরাহের বিষয়ে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে।

সাভারে পরপর কয়েকটি স্থানে বোমা ও বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এখন চক্রটির অন্যান্য সদস্যকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের পাশাপাশি সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর মধ্যে যোগসূত্র খুঁজছে। একই সঙ্গে উদ্ধার হওয়া বিস্ফোরকের রাসায়নিক উপাদান পরীক্ষা করে এগুলোর উৎস ও ব্যবহারের ধরন সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা চলছে।


Advertisement
Loading...
Loading...
আরো দেখুন
সম্পাদক: ইকবাল সোবহান চৌধুরী
অবজারভার লিমিটেডের পক্ষে সম্পাদক কর্তৃক গ্লোব প্রিন্টার্স, ২৪/এ, নিউ ইস্কাটন রোড, রমনা, ঢাকা থেকে প্রকাশিত।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:আজিজ ভবন (৩য় তলা), ৯৩, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা (সি/এ), ঢাকা-১০০০।

ফোন: পিএবিএক্স- ৪১০৫৩০০১-০৬; বিজ্ঞাপন: ৪১০৫৩০১২; ০১৭৯৩৩১৭৮২৯, ০১৫৫০৭০৭২৯১, ই-মেইল: [email protected], ‍[email protected] অনলাইন: ৪১০৫৩০১৪; ০১৫৫০৭০৭২৯৭ ই-মেইল: [email protected] ০১৫৫০৭০৭২৯৬
🔝