ভারতের উত্তরাখণ্ডের চামোলি জেলায় নির্মাণাধীন একটি টানেলে হঠাৎ পানি ও ধ্বংসাবশেষ ঢুকে অন্তত সাতজন শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও দুজন শ্রমিক টানেলের ভেতরে আটকা পড়েছেন।
তাদের উদ্ধারে অভিযান চলছে। রাজ্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার চামোলির পিপলকোটিতে তেহরি হাইড্রো ডেভেলপমেন্ট করপোরেশন লিমিটেডের (টিএইচডিসি) একটি প্রকল্প এলাকায় মোট ২২ জন শ্রমিক কাজ করছিলেন।
হঠাৎ টানেলের ভেতর প্রবল স্রোতে পানি ঢুকে পড়লে অনেক শ্রমিক স্রোতের সঙ্গে টানেলের মুখের দিকে ভেসে যান। এ ঘটনায় ১৪ জন আহত হয়েছেন।
জেলা ম্যাজিস্ট্রেট গৌরব কুমার জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে বিপুল পরিমাণ পানি ও ধ্বংসাবশেষ নির্মাণাধীন টানেলটিতে ঢুকে পড়ে।
স্থানীয় বিধায়ক লাখপত বুটোলা বলেন, ‘এটি অত্যন্ত মর্মান্তিক ঘটনা।
পুরো প্রশাসনিক দল এবং আমার সহকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন। উদ্ধার অভিযানে নিয়োজিতদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়াই এখন আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার।’
উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম যুদ্ধকালীন তৎপরতায় পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছ থেকে তিনি পরিস্থিতির তাৎক্ষণিক খবর নিচ্ছেন।
ধামি জানান, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত শ্রমিকদের সঙ্গে তিনি কথা বলেছেন এবং তাদের অবস্থা স্থিতিশীল। আহত ও দুর্ঘটনায় জড়িত ঝাড়খণ্ড ও ছত্তিশগড়ের বাসিন্দাদের বিষয়েও সংশ্লিষ্ট দুই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে তিনি অবহিত করেছেন।
আটকে পড়া শ্রমিকদের উদ্ধারে জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ) ও রাজ্য দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনীর (এসডিআরএফ) সদস্যরা ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে তল্লাশি চালাচ্ছেন।
চামোলি জেলায় গত কয়েক দিন ধরে ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এর আগে সোমবার জেলার নীতি উপত্যকা এলাকায় নদীর পানি বেড়ে প্রবল স্রোতে একটি সেতু ভেসে যায়।
ওই ঘটনার ভিডিওতে দেখা যায়, কাদা মিশ্রিত বিপুল পরিমাণ পানি প্রবল বেগে নিচের দিকে নেমে এসে ধাতব সেতুটিতে আঘাত করছে। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই পানির তীব্র স্রোতে সেতুটি উপড়ে গিয়ে নদীর তীরে ঠেলে চলে যায়।
তথ্যসূত্র: এনডিটিভি