ENGLISH EPAPER 📍 ঢাকা 📅 বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬, ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩
শিরোনাম
Advertisement
গুজরাটে ৫ সপ্তাহে ২৫ মৃত্যু, তবু মিলছে না প্রাণঘাতী ভাইরাসের উৎস
✎ অবজারভার অনলাইন ডেস্ক
⏲ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৬, ৩:১৩ পিএম
সংগৃহীত ছবি
X

সংগৃহীত ছবি

ভারতের গুজরাটে চণ্ডীপুরা ভাইরাসের সংক্রমণে মাত্র পাঁচ সপ্তাহে ২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে এত মৃত্যুর পরও ভাইরাসটি ঠিক কীভাবে ছড়াচ্ছে, তা এখনো নিশ্চিত হতে পারেননি জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। এখন পর্যন্ত যেসব সম্ভাব্য বাহক বা কীটপতঙ্গ পরীক্ষা করা হয়েছে, সেগুলোর কোনো নমুনাতেই চণ্ডীপুরা ভাইরাসের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।

গত ৩০ জুন গুজরাটে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপকভাবে নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষা শুরু হয়। প্রথমে কয়েক হাজার স্যান্ডফ্লাই বা বালুমাছি সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হয়। পরে সম্ভাব্য বাহক হিসেবে মশা ও টিকও পরীক্ষার আওতায় আনা হয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো নমুনায় ভাইরাসটির উপস্থিতি পাওয়া যায়নি।

গবেষকদের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন—ভাইরাসটি আসলে কোথায় বংশবিস্তার করছে?

২০২৪ সালের চণ্ডীপুরা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের সময়ও একই ধরনের পরীক্ষা চালিয়েও ভাইরাসটির নির্দিষ্ট বাহক শনাক্ত করা যায়নি। ওই বছর গুজরাটে ৭৮ শিশুর শরীরে চণ্ডীপুরা ভাইরাসের উপসর্গ দেখা দেয় এবং তাদের মধ্যে ২৮ জনের মৃত্যু হয়।

চলতি বছরের প্রাদুর্ভাবে গুজরাট সরকার এখন পর্যন্ত ৩৯ শিশুর শরীরে চণ্ডীপুরা ভাইরাস শনাক্ত হওয়ার কথা জানিয়েছে। এর মধ্যে ২৫ জন মারা গেছে।

চণ্ডীপুরা ভেসিকুলোভাইরাস বা সিএইচপিভি সাধারণত ১৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের আক্রান্ত করে। এর ফলে অ্যাকিউট এনসেফালাইটিস সিনড্রোম বা মস্তিষ্কে তীব্র প্রদাহজনিত জটিলতা দেখা দিতে পারে। এখন পর্যন্ত গুজরাট ও রাজস্থানে এ ভাইরাসে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।

স্যান্ডফ্লাই নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন প্রশ্ন

চণ্ডীপুরা ভাইরাসের পরিচিত বাহক হলো স্যান্ডফ্লাই। মাটির তৈরি বাড়ির ফাঁকফোকর ও গবাদিপশুর আশপাশে এ ধরনের বালুমাছি বেশি দেখা যায়।

তবে এবার একটি বিষয় গবেষকদের ভাবিয়ে তুলেছে। স্যান্ডফ্লাই মূলত গুজরাটের পূর্বাঞ্চলে বেশি পাওয়া গেলেও চণ্ডীপুরা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী পাওয়া গেছে পশ্চিমাঞ্চলের সৌরাষ্ট্র এলাকাতেও।

এ কারণে গবেষকদের মধ্যে প্রাথমিকভাবে ধারণা তৈরি হয়েছে, মানুষের মধ্যে ভাইরাসটি ছড়ানোর ক্ষেত্রে স্যান্ডফ্লাইয়ের পাশাপাশি একাধিক ধরনের বাহক ভূমিকা রাখতে পারে।

গুজরাট ও দেশের পাঁচটি জাতীয় প্রতিষ্ঠানের গবেষকদের নিয়ে গঠিত ন্যাশনাল জয়েন্ট আউটব্রেক রেসপন্স টিম বর্তমানে রাজ্যটিতে কাজ করছে। ২০২৪ ও ২০২৬ সালের প্রাদুর্ভাবের সময় গুজরাট ও রাজস্থান থেকে সংগ্রহ করা এক হাজারের বেশি স্যান্ডফ্লাই ও অন্যান্য বাহকের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। কিন্তু কোনো নমুনাতেই ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি।

বর্তমান প্রাদুর্ভাবে গুজরাটের ১২টি জেলা এবং রাজস্থানের তিনটি জেলায় চণ্ডীপুরা আক্রান্ত রোগী পাওয়া গেছে। গুজরাটের পাটান জেলায় সবচেয়ে বেশি পাঁচজন আক্রান্ত হয়েছেন। এরপর সাবরকান্থা জেলায় আক্রান্ত হয়েছেন চারজন।

গুজরাটের এক প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে বলেন, আক্রান্তদের মধ্যে কোনো নির্দিষ্ট এলাকায় একাধিক রোগীর ক্লাস্টার দেখা যাচ্ছে না। প্রতিটি এলাকা থেকে বিচ্ছিন্নভাবে একজন করে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা ঘটছে। ফলে রোগের বাহকও তুলনামূলক কম সংখ্যায় থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সাধারণত কোনো বাহকবাহিত রোগে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা যত বেশি হয়, সেই রোগের বাহক শনাক্ত করার সম্ভাবনাও তত বাড়ে।

ণ্ডীপুরা রোগের নামকরণ হয়েছে মহারাষ্ট্রের নাগপুরের চণ্ডীপুরা নামের একটি ছোট গ্রামের নাম অনুসারে। ১৯৬৫ সালে প্রথম এই রোগ শনাক্ত ও নথিভুক্ত করা হয়।

সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

Advertisement
Loading...
Loading...
আরো দেখুন
সম্পাদক: ইকবাল সোবহান চৌধুরী
অবজারভার লিমিটেডের পক্ষে সম্পাদক কর্তৃক গ্লোব প্রিন্টার্স, ২৪/এ, নিউ ইস্কাটন রোড, রমনা, ঢাকা থেকে প্রকাশিত।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:আজিজ ভবন (৩য় তলা), ৯৩, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা (সি/এ), ঢাকা-১০০০।

ফোন: পিএবিএক্স- ৪১০৫৩০০১-০৬; বিজ্ঞাপন: ৪১০৫৩০১২; ০১৭৯৩৩১৭৮২৯, ০১৫৫০৭০৭২৯১, ই-মেইল: [email protected], ‍[email protected] অনলাইন: ৪১০৫৩০১৪; ০১৫৫০৭০৭২৯৭ ই-মেইল: [email protected] ০১৫৫০৭০৭২৯৬
🔝