সময়ের সাথে সাথে বদলে যাচ্ছে সন্ত্রাসবাদের ধরন। অস্ত্রের পাশাপাশি এখন প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ডার্ক ওয়েব, এনক্রিপ্টেড অ্যাপ ও ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহার করে আরও সংগঠিত হচ্ছে জঙ্গি গোষ্ঠীগুলো। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন বাস্তবতায় প্রচলিত সন্ত্রাসবিরোধী কৌশল আর যথেষ্ট নয়।
২০২৪ সালের ২২ মার্চ রাশিয়ার মস্কোর ক্রোকাস সিটি হল হামলায় ১৪৯ জন নিহত ও প্রায় ৬০০ জন আহত হন। এর দায় স্বীকার করে আইএসের আফগান শাখা ইসলামিক স্টেট খোরসান প্রদেশ বা আইএসকেপি। ঘটনার দুই বছর পর এই হামলায় জড়িত ১৫ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন রাশিয়ার সামরিক আদালত।
তদন্তে জানা যায়, হামলার পরিকল্পনা হয়েছিল আফগানিস্তানের হেরাত থেকে। পুরো সমন্বয় চলেছে এনক্রিপ্টেড ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে; কোনো পর্যায়েই পরিকল্পনাকারী ও হামলাকারীদের সরাসরি দেখা হয়নি। একই ধরনের কৌশল দেখা যায় ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে ইরানের কেরমান হামলাতেও।
জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে বলা হয়, আইএসকেপি এখন সাইবার জগতে ব্যাপকভাবে সক্রিয়। অনলাইন প্রচারণা, সদস্য সংগ্রহ, ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে অর্থায়ন ও এনক্রিপ্টেড যোগাযোগের মাধ্যমে হামলার পরিকল্পনা-এই চারভাবেই তারা সক্ষমতা বাড়িয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় জেনারেটিভ এআইয়ের ব্যবহার। এআই দিয়ে দ্রুত বিভিন্ন ভাষায় প্রচারণা চালানোসহ ভবিষ্যতে উগ্রবাদী মতাদর্শে প্রশিক্ষিত চ্যাটবট তৈরি হলে অনলাইনে চরমপন্থায় উদ্বুদ্ধ করা আরও সহজ হয়ে যেতে পারে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, এই নতুন ধরনের ডিজিটাল সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় ও উন্নত সাইবার সক্ষমতা গড়ে তোলার বিকল্প নেই।
টিআইএস