যাদের বয়স ৭৫ বছরের বেশি, আগে হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোক হয়নি, তারা স্ট্যাটিন বন্ধ করলেও তিন বছরে মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ে না—এমন তথ্য উঠে এসেছে নতুন এক গবেষণায়। তবে গবেষক ও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ফলাফল দেখে নিজের সিদ্ধান্তে স্ট্যাটিন বন্ধ করা উচিত নয়। ব্রিটিশ দৈনিক ডেইলি মেইল গবেষণাটি নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
গত ১১ আগস্ট গবেষণাটি দ্য ল্যানসেট হেলদি লংজেভিটি জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। এরপর এটি নিয়ে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইল প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
তথ্য অনুসারে, ফ্রান্সের বোর্দো বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের গবেষকেরা গড়ে ৮০ বছর বয়সী ১ হাজার ১৬০ জনকে নিয়ে গবেষণাটি করেন। অংশগ্রহণকারীদের কারও আগে হৃদ্রোগ বা স্ট্রোকের ইতিহাস ছিল না। তাদের একদল স্ট্যাটিন চালিয়ে যান, অন্যদল ওষুধটি বন্ধ করেন।
তিন বছর পর দেখা যায়, স্ট্যাটিন বন্ধ করা দলের ৭ দশমিক ২ শতাংশ মারা গেছেন। স্ট্যাটিন চালিয়ে যাওয়া দলের মৃত্যুর হার ছিল ৭ দশমিক ৯ শতাংশ। অর্থাৎ দুই দলের মধ্যে মৃত্যুর হারে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য পাওয়া যায়নি।
তবে স্ট্যাটিন বন্ধ করা ব্যক্তিদের মধ্যে বড় ধরনের হৃদ্রোগজনিত সমস্যা কিছুটা বেশি দেখা গেছে। এ দলের ৫ শতাংশের এমন সমস্যা হয়। ওষুধ চালিয়ে যাওয়া দলের ক্ষেত্রে এ হার ছিল ৪ দশমিক ৪ শতাংশ।
হার্ট অ্যাটাকের ক্ষেত্রেও কিছুটা পার্থক্য দেখা যায়। স্ট্যাটিন বন্ধ করা দলের ২ দশমিক ১ শতাংশের হার্ট অ্যাটাক হয়। অন্যদিকে, ওষুধ চালিয়ে যাওয়া দলের ক্ষেত্রে এ হার ছিল ১ দশমিক ৪ শতাংশ। স্ট্যাটিন বন্ধ করা দলের ১৪ জনের নন-ফ্যাটাল স্ট্রোক হয়, যেখানে ওষুধ চালিয়ে যাওয়া দলের ১২ জনের এমন স্ট্রোক হয়।
তবে গবেষকেরা জানান, এসব পার্থক্য পরিসংখ্যানগতভাবে উল্লেখযোগ্য নয়। অর্থাৎ এই গবেষণার ফল থেকে নিশ্চিতভাবে বলা যায় না যে স্ট্যাটিন বন্ধ করলে হৃদ্রোগ বা স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ে।
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, স্ট্যাটিন বন্ধ করার পর রক্তে এলডিএল বা ‘খারাপ’ কোলেস্টেরলের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। তিন মাসের মধ্যে স্ট্যাটিন বন্ধ করা ব্যক্তিদের গড় এলডিএল ১১৫ থেকে বেড়ে ১৭১ মিলিগ্রাম/ডেসিলিটারে পৌঁছায়। যারা ওষুধ চালিয়ে গেছেন, তাদের ক্ষেত্রে এই মাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত ছিল।
স্ট্যাটিন মূলত রক্তে ক্ষতিকর কোলেস্টেরল কমিয়ে হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে ব্যবহার করা হয়। যুক্তরাজ্যে প্রায় ৮০ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক এই ওষুধ গ্রহণ করেন। তাদের মধ্যে প্রায় ১৫ লাখের বয়স ৭৫ বছরের বেশি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গবেষণাটি ছোট পরিসরে হওয়ায় এর ফল সবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নাও হতে পারে। বিশেষ করে যাদের আগে হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক বা অন্য কোনো হৃদ্রোগ হয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে এই গবেষণার ফল প্রযোজ্য নয়।
শেফিল্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্ডিওলজির অধ্যাপক রবার্ট স্টোরি বলেন, গবেষণার ফল দেখে ৭৫ বছরের বেশি বয়সী অধিকাংশ স্ট্যাটিন ব্যবহারকারীর ওষুধ বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়।
ব্রিটিশ হার্ট ফাউন্ডেশনের প্রধান বৈজ্ঞানিক ও চিকিৎসা কর্মকর্তা ব্রায়ান উইলিয়ামসও সতর্ক করে বলেছেন, এই গবেষণা স্ট্যাটিনের উপকারিতা শেষ হয়ে গেছে—এটি প্রমাণ করে না। বরং কারও স্ট্যাটিন বন্ধ বা পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করেই নেওয়া উচিত।
এসএ