মাত্র ২৪ ঘণ্টায় চিবার কিছু এলাকায় ৩৬০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর অন্যতম চিবা সিটিতে সরকারি ভবনে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে।
জাপানের রাজধানী টোকিওর পার্শ্ববর্তী চিবা অঞ্চলে রেকর্ড পরিমাণ ভারী বৃষ্টিপাত ও আকস্মিক বন্যায় অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও পাঁচজন এবং একজন নিখোঁজ রয়েছেন। প্রবল বর্ষণে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি ভূমিধস, বিদ্যুৎ বিপর্যয় ও যোগাযোগব্যবস্থায় বড় ধরনের অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। খবর বিবিসি ও রয়টার্সের।
ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যে চিবা অঞ্চলের এক লাখেরও বেশি পরিবারকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার জন্য সতর্ক করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাতে প্রথমবারের মতো চিবার জন্য সর্বোচ্চ সতর্কতা লেভেল-৫ জারি করে জাপানের আবহাওয়া কর্তৃপক্ষ। তবে শুক্রবার সকালে তা লেভেল-৪-এ নামিয়ে আনা হয়।
জাপান মেটিওরোলজিক্যাল এজেন্সির (জেএমএ) এক কর্মকর্তা সংবাদ সম্মেলনে বলেন, 'এটি নজিরবিহীন মাত্রার ভারী বৃষ্টিতে রূপ নিচ্ছে।'
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাপানের অন্যতম ব্যস্ত ছুটির মৌসুমে মাত্র ২৪ ঘণ্টায় চিবার কিছু এলাকায় ৩৬০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এতে অঞ্চলটির বহু সড়ক ও রেলপথ পানিতে তলিয়ে যায়। বন্যার পানিতে গাড়ি আটকে পড়ার ঘটনাও ঘটেছে। পানিতে তলিয়ে যাওয়া একটি গাড়িতে আটকে থাকা একজনসহ এখন পর্যন্ত চারজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। চিবার গভর্নর তোশিহিতো কুমাগাই শুক্রবার সকালে সাংবাদিকদের বলেন, 'এটি একটি অত্যন্ত অস্বাভাবিক পরিস্থিতি। অতীতে আমি অনেক দুর্যোগ মোকাবিলা করেছি, কিন্তু এমন পরিস্থিতি আগে কখনো দেখিনি।'
এদিকে ভয়াবহ বৃষ্টিতে বিদ্যুৎ সরবরাহও ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে। বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান টোকিও ইলেকট্রিক পাওয়ার জানিয়েছে, শুক্রবার বেলা ১১টা পর্যন্ত চিবা অঞ্চলের ২২ হাজারের বেশি পরিবার বিদ্যুৎহীন ছিল।
সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর অন্যতম চিবা সিটিতে সরকারি ভবনে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। সেখানে শত শত মানুষ কম্বল মুড়িয়ে রাত কাটিয়েছেন।
বন্যা ও যোগাযোগব্যবস্থা বিপর্যয়ের প্রভাব পড়েছে টোকিওর নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও। বিমানবন্দরের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, প্রায় সাত হাজার যাত্রী টার্মিনাল ভবনে আটকা পড়েছেন।
জাপানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকের ভিডিওতে দেখা গেছে, রাতে বিমানবন্দরে কম্বল, পানির বোতল ও শুকনা খাবার সংগ্রহের জন্য শত শত যাত্রী দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। অনেকেই টার্মিনালের মেঝেতে রাত কাটাতে বাধ্য হয়েছেন।
এসএফ