বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলায় ঘরের পাশে রাখা বালুভর্তি একটি বস্তায় হঠাৎ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে শিশুসহ তিনজন দগ্ধ হয়েছেন। দুধলমৌ গ্রামে বিস্ফোরণস্থল ঘিরে রেখেছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।
সোমবার সকালে উপজেলার ভরপাশা ইউনিয়নের দুধলমৌ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহত ব্যক্তিদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আহত ব্যক্তিরা হলেন ওই বাড়ির মালিক শাহ আলম হাওলাদারের স্ত্রী হনুফা বেগম, মেয়ে ইতি আক্তার (১৮) ও নাতি ফাহিম (১৫)।
বরিশাল জেলার পুলিশ সুপার এ জেড এম মুস্তাফিজুর রহমান জানান, ‘এটি কোন ধরনের বিস্ফোরক, আমরা জানি না। আরও বিস্ফোরক আছে কি না, তা–ও বলতে পারছি না। তবে ঢাকায় বোম ডিসপোজাল ইউনিটকে খবর দেওয়া হয়েছ। বিকেলের মধ্যে তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছাবে বলে আশা করছি। পুলিশ সামগ্রিক বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। তবে এ নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।’
শাহ আলমের ছেলে জামাল হোসেন বলেন, আজ সকাল সাতটার দিকে তাদের বাড়ির পাশে রাখা বালুভর্তি একটি বস্তায় হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণ হয়। এতে তাঁর মা, বোন ও ভাগনের শরীরে আগুন ধরে যায়। তাঁরা পাশের তুলাতলা নদীতে ঝাঁপ দেন। আশপাশের লোকজন ছুটে এসে তাঁদের উদ্ধার করেন। পরে প্রথমে তাঁদের বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
সকালে হঠাৎ প্রচণ্ড শব্দে ঘুম ভাঙে জানিয়ে প্রতিবেশী এনায়েত হোসেন বলেন, বাইরে এসে জানতে পারেন যে পাশের বাড়িতে বিস্ফোরণের ঘটনায় তিনজন দগ্ধ হয়েছেন। কীভাবে বিস্ফোরণ ঘটেছে, তা কেউ বলতে পারছেন না।
বরিশালের পুলিশ সুপার এ জেড এম মুস্তাফিজুর রহমান, এটি কোন ধরনের বিস্ফোরক, আমরা জানি না। আরও বিস্ফোরক আছে কি না, তা-ও বলতে পারছি না। তবে ঢাকায় বোম ডিসপোজাল ইউনিটকে খবর দেওয়া হয়েছ।
ঘটনার পর র্যাব, পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সদস্য ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে যান। তাঁরা বিস্ফোরণের জায়গাটি ঘিরে রেখেছেন। বিষয়টি নিয়ে তারা স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলছেন। বিস্ফোরকটি বোমা ছিল কি না, সে ব্যাপারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। তবে ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাকেগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আদিল হোসেন।
বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পঞ্চম তলার পুরুষ সার্জারি ওয়ার্ডের নার্স লিংকন দত্ত বলেন, প্রথম তিনজন এই ওয়ার্ডে আসার পর নারী দুজনকে চারতলার মহিলা সার্জারি ওয়ার্ডে পাঠানো হয়েছে। তবে কে কত শতাংশ দগ্ধ হয়েছেন, সেটা তাৎক্ষণিক তিনি বলতে পারেননি।
টিআইএস