কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় বিরল শারীরিক অবস্থায় বুকে সংযুক্ত (কনজয়েন্ট) জমজ কন্যাশিশুর জন্ম হয়েছে। সন্তানের আগমনে যেখানে একটি পরিবারে আনন্দের আবহ থাকার কথা, সেখানে জন্মের পর থেকেই অনিশ্চয়তা, দুশ্চিন্তা ও আর্থিক সংকটে দিন কাটছে শিশু দুটির বাবা-মায়ের।
জানা গেছে, দৌলতপুর উপজেলার প্রাগপুর ইউনিয়নের বিলগাথুয়া গ্রামের দিনমজুর নাহিদ হোসেন ও তার স্ত্রী মুক্তা খাতুনের ঘর আলো করে কয়েক মাস আগে জন্ম নেয় জমজ দুই কন্যাশিশু। জন্মের পর চিকিৎসকরা জানান, শিশু দুটি বুকের অংশে পরস্পরের সঙ্গে সংযুক্ত অবস্থায় রয়েছে। তাদের সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবন নিশ্চিত করতে প্রয়োজন জটিল ও ব্যয়বহুল অস্ত্রোপচার।
প্রথমদিকে লোকলজ্জা ও মানসিক কষ্টের কারণে বিষয়টি গোপন রেখেছিলেন বাবা-মা। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসা ও দৈনন্দিন পরিচর্যার ব্যয় বহন করা তাদের পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়েছে। বর্তমানে অর্থাভাবে শিশু দুটির চিকিৎসাও প্রায় বন্ধ রয়েছে।
শিশুদের বাবা নাহিদ হোসেন জানান, দিনমজুরি করে কোনোমতে সংসার চালান তিনি। অনেক সময় দুই বেলা খাবার জোটানোও কঠিন হয়ে পড়ে। এমন পরিস্থিতিতে সন্তানদের চিকিৎসার বিপুল ব্যয় বহন করা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। তাই সন্তানদের বাঁচাতে সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষের সহযোগিতা কামনা করেছেন তিনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শিশু দুটিকে এক নজর দেখতে প্রতিদিনই বাড়িতে ভিড় করছেন উৎসুক মানুষ। তবে পরিবারের একমাত্র প্রত্যাশা, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত হলে তাদের সন্তানরা একদিন স্বাভাবিক জীবন ফিরে পাবে।
এ বিষয়ে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পরিবারের অসহায় অবস্থার কথা উল্লেখ করে সমাজের সামর্থ্যবান ব্যক্তি ও বিভিন্ন দাতব্য প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা কামনা করেছেন। অন্যদিকে, দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পরিবারটির খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।
এখন সন্তানদের জীবন বাঁচাতে মানবিক সহায়তার অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন নাহিদ-মুক্তা দম্পতি। তাদের বিশ্বাস, সমাজের সহৃদয় মানুষের সহযোগিতাই পারে দুই কন্যাশিশুর স্বাভাবিক জীবনের স্বপ্ন পূরণ করতে।
এসআই/এসআর