চট্টগ্রামের হাটহাজারী-নাজিরহাট আঞ্চলিক মহাসড়কের কুমারীকুল রাস্তার মাথায় সিএনজি অটোরিকশার ওয়ার্কশপের আড়ালে দেশীয় অস্ত্র তৈরির কারখানার সন্ধান পেয়েছে পুলিশ।
এ সময় ওই কারখানায় তৈরি চারটি সক্রিয় পাইপগান, একটি পেনগান, গুলিসহ অস্ত্র তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে পুলিশ।
সোমবার রাতে উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের মনচুরাবাদ কলোনির সাকিবের ঘর থেকে এসব অস্ত্র উদ্ধারের পাশাপাশি দুইজনকে আটক করে পুলিশ। পরে তাদের দেওয়া তথ্যমতে, উল্লেখিত স্থানে একটি মার্কেটে কারখানাটির সন্ধান মেলে। এ সময় কারখানায় অস্ত্র তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম দেখা যায়। যদিও লোকচক্ষুর কাছে ওই কারখানাটি সিএনজি অটোরিকশার ওয়ার্কশপ হিসেবে পরিচিত।
আটককৃতরা হলেন—মির্জাপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের জামাল মিস্ত্রীর বাড়ির মৃত চান মিয়ার ছেলে মো. জামাল হোসেন এবং একই এলাকার বরিশাল কলোনির মালেক ড্রাইভারের বাড়ির মৃত আব্দুল মালেকের ছেলে মো. কবির।
এদিকে জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ওই কারখানা প্রাঙ্গণে প্রেস ব্রিফিং দেন। ঘটনার সত্যতা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সিএনজি অটোরিকশার ওয়ার্কশপের আড়ালে মহাসড়কের পাশে দেশীয় অস্ত্র তৈরি হচ্ছে—এটি সত্যিই অবাক করার মতো।’
পেনগানের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘কিছুদিন আগে ঢাকায় বিদেশি অত্যাধুনিক পেনগান উদ্ধার করা হয়েছিল। কিন্তু এখানে দেশীয় পেনগান তৈরি হচ্ছে। যারা এগুলো তৈরি করছে, তারা অনেক চতুর। এ বিষয়ে তাদের অবশ্যই ভালো অভিজ্ঞতা রয়েছে।’
পুলিশ সুপার আরও বলেন, তৈরিকৃত অস্ত্রগুলো দিয়ে পিস্তলের গুলির পাশাপাশি রাবার বুলেটও ব্যবহার করা যায়। এগুলো দিয়ে আহত কিংবা নিহত—উভয় কাজেই ব্যবহার করা সম্ভব।
তিনি বলেন, ‘মূল হোতা ওসমান পলাতক। আটককৃত জামালও অস্ত্র তৈরিতে পারদর্শী। স্বল্প খরচে তৈরি এসব অস্ত্রের ব্যবসা সহজলভ্য।’ মূল হোতাসহ এ কাজে জড়িতদের আটকে পুলিশ কাজ করছে বলেও জানান মাসুদ আলম। এর আগে তিনি কারখানাটি পরিদর্শন করেন।
এ সময় হাটহাজারী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী তারেক আজিজ, অফিসার ইনচার্জ জাহিদুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
ইউএন/আরএন