সংস্কৃতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী বলেছেন, যেকোনো মূল্যে দেশকে মাদকমুক্ত করতে হবে। মাদক নির্মূল করা না গেলে দেশের তরুণ সমাজকে বাঁচানো সম্ভব হবে না। তরুণ প্রজন্মকে মাদকাসক্তি থেকে দূরে রাখতে সারা দেশে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে মাগুরা জেলার সাংস্কৃতিক ও উন্নয়ন কার্যক্রম নিয়ে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সংস্কৃতিমন্ত্রী বলেন, তরুণ সমাজ একটি দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি। কিন্তু মাদকাসক্তি তরুণদের সেই শক্তিকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। তাই মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার পাশাপাশি তরুণদের সুস্থ বিনোদন ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে হবে। এ লক্ষ্যেই দেশের বিভিন্ন স্থানে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড বাড়ানো হচ্ছে।
তিনি বলেন, “আমাদের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড বাড়ানোর অন্যতম প্রধান কারণ হলো মানুষকে মাদকাসক্তি থেকে বের করে আনা। কারণ, লোকালয়ে আগুন লাগলে দেবালয় রক্ষা পায় না।”
নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, শুধু আইন প্রয়োগ করে মাদক নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। পরিবার, সমাজ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। খেলাধুলা, সাহিত্যচর্চা, সংগীত, নাটক, চিত্রাঙ্কনসহ বিভিন্ন সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তরুণদের ব্যস্ত রাখতে হবে। তাহলেই তাদের মাদকের ভয়াবহতা থেকে দূরে রাখা সম্ভব হবে।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের সমালোচনা করে সংস্কৃতিমন্ত্রী বলেন, “একটি ফ্যাসিবাদী শক্তি এমনভাবে ক্ষমতায় বসেছিল, যেন কোনো শক্তিই তাদের উৎখাত করতে পারবে না। মনে হয়েছিল, বেহুলার বাসরঘরের মতো সেখানে যেন একটি সুইও প্রবেশ করতে পারবে না।”
তিনি আরও বলেন, “সেই সময়ে গুম, অত্যাচার ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। হাজার হাজার মানুষকে গুম করা হয়েছে, আয়নাঘর তৈরি করা হয়েছে। ব্যাংক ও বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান লুটপাট করে বিপুল পরিমাণ অর্থ দেশের বাইরে পাচার করা হয়েছে। রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে শত শত মামলা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বিচারব্যবস্থাকে প্রভাবিত করে যাকে খুশি তাকে ফাঁসি দেওয়া হয়েছে। এমনকি রাতের আঁধারে ভোট কেটে নেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে।”
তিনি বলেন, অতীতের এসব ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও সাংস্কৃতিকভাবে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। এজন্য সমাজের প্রতিটি স্তরে সাংস্কৃতিক চর্চা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
সংস্কৃতিমন্ত্রী জানান, আগামীকাল (২ সেপ্টেম্বর) থেকে পর্যায়ক্রমে সারা দেশের সরকারি-বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঁচ দিনব্যাপী নজরুলচর্চা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হবে।
তিনি বলেন, এসব আয়োজনে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য, সংগীত ও জীবনাদর্শ সম্পর্কে শিশুদের ধারণা দেওয়া হবে। পাশাপাশি নাচ, গান, চিত্রাঙ্কন, উপস্থিত বক্তৃতা, নাটকসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের আয়োজন করা হবে।
নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, ছোটবেলা থেকেই শিশুদের সংস্কৃতি ও সৃজনশীলতার সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে পারলে তারা মাদক, সন্ত্রাস ও নানা ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থাকবে। একটি সুস্থ ও সুন্দর সমাজ গঠনে সাংস্কৃতিক চর্চার কোনো বিকল্প নেই।
মতবিনিময় সভায় মাগুরার সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, উন্নয়ন কার্যক্রম এবং জেলার সার্বিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়। জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের চলমান কার্যক্রম, সাংস্কৃতিক অবকাঠামো উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়েও মতবিনিময় হয়।
মাগুরার জেলা প্রশাসক মোঃ মোতাকাব্বীর আহমেদের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন মাগুরা-১ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মনোয়ার হোসেন খান, জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধান, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ সংশ্লিষ্টরা।
সভায় বক্তারা মাগুরায় সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড আরও সম্প্রসারণ, তরুণদের সৃজনশীল কাজে সম্পৃক্ত করা এবং মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলন জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
ইউএ/আরএন