ENGLISH EPAPER 📍 ঢাকা 📅 বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩
শিরোনাম
Advertisement
গজারিয়ায় কনস্ট্রাকশন সাইটে ডাকাতি: গ্রেফতার ১৯
✎ অবজারভার প্রতিনিধি
⏲ প্রকাশিত: রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬, ৭:৩৯ পিএম
X

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া থানাধীন বালুয়াকান্দি এলাকায় দি জিয়া অ্যান্ড ব্রাদার্স নামক একটি কনস্ট্রাকশন সাইটে ডাকাতির ঘটনায় পুলিশ ১৯ জনকে গ্রেফতার করেছে। এ ঘটনায় ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত দুটি ট্রাক জব্দ করা হয়েছে এবং লুণ্ঠিত নির্মাণসামগ্রীর বৃহত্তম অংশ উদ্ধার করা হয়েছে।

রোববার বিকেল ৪টায় মুন্সীগঞ্জ জেলা পুলিশের কনফারেন্স কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মেনহাজুল আলম, পিপিএম এ তথ্য জানান।

পুলিশ সুপার মেনহাজুল আলম, পিপিএম জানান, গত ১১ জুলাই রাত ২টার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে গজারিয়া থানা পুলিশ জানতে পারে যে, গজারিয়া থানাধীন বালুয়াকান্দি এলাকায় দি জিয়া অ্যান্ড ব্রাদার্স কনস্ট্রাকশন সাইটে ৪-৫ জন সশস্ত্র ব্যক্তি প্রবেশ করে সেখানে কর্মরত নিরাপত্তাকর্মীদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে। পরে তাদের হাত-পা বেঁধে ও চোখ বন্ধ করে একটি কনটেইনার কক্ষে আটকে রেখে সাইটে থাকা বিপুল পরিমাণ নির্মাণসামগ্রী নিয়ে যায়। লুণ্ঠিত মালামালের মূল্য আনুমানিক ৪০ থেকে ৫০ লাখ টাকা।

সংবাদ পাওয়ার পর পুলিশ সুপার মেনহাজুল আলম, পিপিএম-এর নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. কামরান হোসেনের তদারকিতে এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. ইমরান আহম্মেদ, পিপিএম-সেবা-এর তত্ত্বাবধানে গজারিয়া থানা পুলিশ তদন্ত শুরু করে।

তদন্তে ঘটনাস্থলে নিয়োজিত নিরাপত্তাকর্মীদের কাছ থেকে আসামিদের বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য পাওয়া না গেলেও ভুক্তভোগীরা মালামাল পরিবহনের সময় সামনের অংশ হলুদ রঙের একটি ট্রাক দেখতে পাওয়ার কথা জানান। এই সীমিত তথ্যের ভিত্তিতে গজারিয়া থানা পুলিশ তদন্ত শুরু করে।

তদন্তের অংশ হিসেবে ঘটনাস্থল ও আশপাশের বিভিন্ন সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে নিবিড়ভাবে বিশ্লেষণ করা হয়। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণের মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে দুটি ট্রাককে সন্দেহের তালিকায় আনা হয়। পরবর্তীতে যানবাহনের মালিকানা, ট্রাক ভাড়া নেওয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের তথ্য এবং অন্যান্য গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে একটি ট্রাক শনাক্ত করা হয়। ওই ট্রাকের মালিকসহ ট্রাকটি ভাড়া নেওয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়।

এ ঘটনায় দি জিয়া অ্যান্ড ব্রাদার্সের পক্ষ থেকে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে এজাহার দাখিলের পর গত ১৪ জুলাই গজারিয়া থানায় নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়। একই দিন গ্রেফতারকৃত চারজনকে আদালতে প্রেরণ করে রিমান্ডের আবেদন করা হয়।

তদন্তে আরও জানা যায়, লুণ্ঠিত মালামাল পরিবহনের জন্য ওই রাতে আরও একটি ট্রাক ব্যবহার করা হয়েছিল। গজারিয়া থানা পুলিশ ঢাকার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে দ্বিতীয় ট্রাকটিও জব্দ করে এবং এর চালককে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্য ও তদন্তে প্রাপ্ত অন্যান্য তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে পর্যায়ক্রমে শ্রমিক ও স্থানীয় সহযোগীসহ এ পর্যন্ত মোট ১৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, ঘটনাটি দুটি গ্রুপের সমন্বয়ে সংঘটিত হয়েছে। শাওন, সজল ও রিয়াজুলসহ আরও কয়েকজন ব্যক্তি ডাকাতির মূল পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িত বলে প্রাথমিকভাবে তথ্য পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে সজল হোসেন ও মো. রিয়াজুল ইসলাম ইতোমধ্যে গ্রেফতার হয়েছেন।

প্রাথমিকভাবে জানা যায়, শাওন, সজল ও রিয়াজুল ভাঙারি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। পরিকল্পনা অনুযায়ী তারা দি জিয়া অ্যান্ড ব্রাদার্স কনস্ট্রাকশন সাইট থেকে নির্মাণসামগ্রী লুণ্ঠনের জন্য স্থানীয় ব্যক্তি ও শ্রমিকদের সহযোগিতা গ্রহণ করে এবং মালামাল পরিবহনের জন্য একাধিক ট্রাকের ব্যবস্থা করে।

ঘটনার দিন রাত ৮টার দিকে পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত একটি দল ঢাকার তেজগাঁও এলাকা থেকে গজারিয়া আসে এবং একটি হোটেলের সামনে অপেক্ষা করতে থাকে। পরবর্তীতে শাওন ও সজলের নেতৃত্বে একটি অগ্রবর্তী দল এবং স্থানীয় কয়েকজন সহযোগী কনস্ট্রাকশন সাইটে প্রবেশ করে নিরাপত্তাকর্মীদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে একটি কক্ষে আটক রাখে। পরে বাইরে অপেক্ষমাণ সহযোগীদের খবর দেওয়া হলে ট্রাক কনস্ট্রাকশন সাইটের ভেতরে প্রবেশ করে এবং সেখান থেকে বিপুল পরিমাণ নির্মাণসামগ্রী লুণ্ঠন করে নিয়ে যায়।

তদন্তে এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্যানুযায়ী, এ ঘটনায় আনুমানিক ২৩ থেকে ২৪ জনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। তবে তদন্ত চলমান থাকায় এ সংখ্যা পরিবর্তিত হতে পারে।

গ্রেফতারকৃত ১৯ জনের মধ্যে চারজনকে ১৪ জুলাই, ১০ জনকে ১৫ জুলাই এবং পাঁচজনকে ১৮ জুলাই গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন—মো. মাইন উদ্দিন (৪৫), মো. ছোটন (৩০), মো. রিয়াজুল ইসলাম (২৬), মো. আবুল খায়ের (৪০), মো. শাহ আলম (২৩), মো. রনি শিকদার (৩৪), মো. মেহেদী হাসান (৩৮), মনোরঞ্জন দাস (২৭), মো. আল আমিন সানা (১৯), অলোকেশ মণ্ডল (৩৫), সারাফত উদ্দিন সুমন (২৪), মো. অলিউর রহমান (২৪), মো. জামাল (৪০), মো. মৃদুল আহম্মেদ তুষার (২৬), মো. সজল হোসেন (৩০), মো. আরিফ (৪০), মো. মিরাজ (৪০), মো. আলী (৪০) এবং মো. রফিক (৩৩)।

জব্দ ও উদ্ধারকৃত মালামালের মধ্যে রয়েছে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত দুটি ট্রাক, চারটি ব্যাটারি, ১০টি ফ্যান, একটি পাওয়ার সাপ্লাই, দুটি মোটর, দুটি ডায়নামো, একটি ৩০ হর্স পাওয়ার মোটর, একটি চায়না ডিজেল ইঞ্জিন, একটি মিগ ওয়েল্ডিং মেশিন, একটি হাইড্রোলিক রড কাটার মেশিন, একটি ডিবি বোর্ড, পাঁচটি ওয়েল্ডিং মেশিন, একটি হাইড্রোলিক পাম্প, একটি এসি মেশিন, একটি দেড় ইঞ্চি ব্যাসের ১০ ফুট লম্বা পাইপ এবং আনুমানিক ৫.৫ টন লোহার বিভিন্ন মালামাল।

এমএইচএস/এসআর




Advertisement
Loading...
Loading...
আরো দেখুন
সম্পাদক: ইকবাল সোবহান চৌধুরী
অবজারভার লিমিটেডের পক্ষে সম্পাদক কর্তৃক গ্লোব প্রিন্টার্স, ২৪/এ, নিউ ইস্কাটন রোড, রমনা, ঢাকা থেকে প্রকাশিত।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:আজিজ ভবন (৩য় তলা), ৯৩, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা (সি/এ), ঢাকা-১০০০।

ফোন: পিএবিএক্স- ৪১০৫৩০০১-০৬; বিজ্ঞাপন: ৪১০৫৩০১২; ০১৭৯৩৩১৭৮২৯, ০১৫৫০৭০৭২৯১, ই-মেইল: [email protected], ‍[email protected] অনলাইন: ৪১০৫৩০১৪; ০১৫৫০৭০৭২৯৭ ই-মেইল: [email protected] ০১৫৫০৭০৭২৯৬
🔝