সাভারের আশুলিয়া ইউনিয়নের পূর্ব সদরপুর এলাকায় দাবিকৃত ১০ লাখ টাকা চাঁদা না দেওয়ায় একটি পরিবারের ওপর হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একটি চক্রের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় একই পরিবারের পাঁচজন আহত হয়েছেন।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) দিবাগত রাত ৯টার দিকে পূর্ব সদরপুর এলাকার আহাম্মেদ আলীর বাড়িতে এ হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।
আহতরা হলেন- পূর্ব সদরপুর এলাকার সফর আলীর ছেলে আহাম্মেদ আলী (৪০), তার স্ত্রী শিল্পী আক্তার (৩২), মেয়ে আফরিন সুলতানা (১৭), ছেলে সাদ (৪) ও উসমান (৭)।
আহত শিল্পী আক্তারের অভিযোগ, প্রায় এক সপ্তাহ আগে আক্কাস মন্টুসহ ১৫ জনের একটি দল তাদের বাড়িতে এসে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে শুক্রবার রাতে বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পর ১৫ থেকে ২০টি মোটরসাইকেলে করে ৪০ থেকে ৫০ জন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের বাড়িতে হামলা চালায়।
তিনি অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা ঘরে ঢুকে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। এ সময় ঘরে থাকা নগদ দুই লাখ টাকা ও আড়াই ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে যায়। এছাড়া তার মেয়েকে টেনে-হিঁচড়ে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
শিল্পী আক্তার আরও বলেন, হামলাকারীরা থানায় অভিযোগ করলে হত্যার হুমকি দেয়। পরে ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের উদ্ধার করে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়।
হামলায় আহত আহাম্মেদ আলী বলেন, স্থানীয় মন্টুর ছেলে সাজ্জাদের নেতৃত্বে কয়েকজন ব্যক্তি তার বাড়িতে প্রবেশ করে হামলা চালায়। বাধা দিতে গেলে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তার হাতের আঙুল গুরুতর জখম হয়। পরে তাকে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়েছে বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব বিস্তার করে বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে চাঁদা দাবি করে আসছে। এ কারণে বর্তমানে তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্রের সঙ্গে জড়িত। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত শাহজাহান সাজু বলেন, স্থানীয় সংসদ সদস্যের নির্দেশে তিনি বিষয়টি মীমাংসার জন্য ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন। তবে হামলার সঙ্গে তিনি জড়িত নন।
আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারিকুল ইসলাম বলেন, ৯৯৯-এ কল পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছে। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ওএফ/এসআর