বরগুনার আমতলী উপজেলার আঠারগাছিয়া ইউনিয়নের গোডাঙ্গা খালে মাছ চাষ বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন স্থানীয় কৃষক ও ভুক্তভোগী বাসিন্দারা।
সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুর ১টার দিকে গোডাঙ্গা খালের পাড়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য আবু জাফর মিয়ার সভাপতিত্বে আয়োজিত মানববন্ধনে তিন শতাধিক কৃষক ও এলাকাবাসী অংশ নেন। প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী কর্মসূচিতে বক্তারা খালে মাছ চাষ বন্ধে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ দাবি করেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকার কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি গোডাঙ্গা স্লুইজগেট থেকে প্রায় ২০ ফুট দূরে ঘন জালের নেট দিয়ে খালের মধ্যে বেড়া দিয়ে মাছ চাষ শুরু করেছেন। এতে খালের স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়ে পড়েছে এবং এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে।
ভুক্তভোগীরা জানান, গোডাঙ্গা খালের পানি দিয়ে এলাকার কৃষকরা ইরি-বোরো ও রবি মৌসুমে কৃষিকাজ করেন। পাশাপাশি খালের দুই পাড়ের বাসিন্দারা গৃহস্থালির কাজ, গবাদিপশুর ব্যবহারসহ বিভিন্ন প্রয়োজনে এ পানির ওপর নির্ভরশীল। এছাড়া অনেক পরিবার খাল থেকে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, প্রবাহমান খালে মাছ চাষ করা হলে কৃষক ও সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে। দ্রুত এই কার্যক্রম বন্ধ না হলে কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি দেওয়া হবে।
ভুক্তভোগী মো. হারুন তালুকদার অভিযোগ করেন, স্থানীয় জাহিদুল ইসলাম মাষ্টারের তত্ত্বাবধানে কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি খালের মধ্যে নেট দিয়ে বেড়া দিয়ে মাছ চাষ শুরু করেছেন। এতে কৃষকসহ সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়ছে।
কৃষক জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, “এই খালের পানি ব্যবহার করে আমরা ফসল ফলাই এবং পরিবার নিয়ে জীবনযাপন করি। খালে মাছ চাষ করা হলে আমাদের জীবিকার ওপর বড় ধরনের প্রভাব পড়বে।”
আরেক ভুক্তভোগী শহিদ হাওলাদার অভিযোগ করেন, খালে মাছ চাষের প্রতিবাদ করায় প্রভাবশালী এক ব্যক্তি তার বৃদ্ধ মাকে মারধর করেছেন। তিনি এ ঘটনার বিচার দাবি করেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আবু জাফর মিয়া বলেন, “খালে মাছ চাষ হলে শত শত কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এনে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।”
অভিযোগের বিষয়ে মো. জাহিদুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি খালে মাছ চাষের সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, “আমি এর সঙ্গে জড়িত নই। আফজাল মৃধা নামের একজন ব্যক্তি ইজারা নিয়ে মাছ চাষ করছেন। এতে ক্ষতির কোনো কারণ নেই। বরং খালটি আগে কচুরিপানায় ভরা ছিল, পরিষ্কার করার পর মানুষ এখন পানি ব্যবহার করতে পারছেন।”
এ বিষয়ে আমতলী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, “বিষয়টি সরেজমিন তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এএসকে/ এসআর