বর্ষার বৃষ্টিতে নতুন রূপে সেজেছে শেরপুরের সীমান্তঘেঁষা গারো পাহাড়। সবুজের সমারোহ, মেঘের আনাগোনা, ঝিরঝিরি বৃষ্টি আর পাহাড়ি প্রকৃতির নৈসর্গিক সৌন্দর্যে এখন মুখর পুরো এলাকা। ব্যস্ত নগরজীবনের ক্লান্তি কাটাতে প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে গারো পাহাড় হয়ে উঠেছে এক আকর্ষণীয় গন্তব্য।
শুষ্ক মৌসুমে যেখানে পাহাড়ের গাছপালা ও ঝরাপাতায় ভিন্ন চিত্র দেখা যায়, সেখানে বর্ষার বৃষ্টিতে গারো পাহাড় যেন সবুজ চাদরে ঢাকা পড়ে। আকাশে মেঘের ভেলা, পাহাড়ের আঁকাবাঁকা পথ, বৃষ্টিভেজা গাছগাছালি আর ছড়া-ঝরনার পানির কলতান পর্যটকদের মন কেড়ে নিচ্ছে।
প্রকৃতিপ্রেমীদের মতে, পাহাড় ও বৃষ্টির এই মেলবন্ধন গারো পাহাড়কে দিয়েছে অনন্য সৌন্দর্য। ঝিরঝিরি বৃষ্টির মধ্যে পাহাড়ি পথে হাঁটা কিংবা সীমান্তের সবুজ বনভূমির মধ্য দিয়ে চলাচলের অভিজ্ঞতা ভ্রমণপ্রেমীদের জন্য হতে পারে ভিন্নরকম অনুভূতি। তবে পাহাড়ি সড়কে চলাচলের সময় সতর্ক থাকতে হয়। কারণ এ অঞ্চলে রয়েছে বন্যহাতির বিচরণ।
শেরপুরের গারো পাহাড় ভারতের মেঘালয় রাজ্যের সীমান্তঘেঁষা এলাকায় অবস্থিত। ঢাকা থেকে এর দূরত্ব প্রায় ২২০ কিলোমিটার এবং ময়মনসিংহ বিভাগীয় শহর থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার উত্তরে। এখানে রয়েছে শাল-গজারি বন, আগর বাগান, পাহাড়ি ছড়া, নানা প্রজাতির পাখি ও বন্যপ্রাণীর বিচরণ।
বর্ষায় পাহাড়ের আনাচে-কানাচে থাকা অসংখ্য ছড়া ও ঝরনায় পানির প্রবাহ বেড়ে যায়। শাল-গজারি পাতায় বৃষ্টির ফোঁটার শব্দ, পাহাড়ের কোলে মেঘের খেলা এবং সবুজ প্রকৃতির অপরূপ দৃশ্য পর্যটকদের মুগ্ধ করে।
শেরপুরের গারো পাহাড় এলাকায় রয়েছে বেশ কয়েকটি দর্শনীয় স্থান। এর মধ্যে নালিতাবাড়ী উপজেলার পানিহাটা, দাওধারা প্রস্তাবিত পর্যটন কেন্দ্র, বারোমারী খ্রিষ্টান মিশন, মধুটিলা ইকোপার্ক, ঝিনাইগাতী উপজেলার সন্ধ্যাকূড়া রাবার বাগান, গজনী সীমান্ত সড়ক, অবকাশ পিকনিক স্পট এবং শ্রীবরদী উপজেলার রাজার পাহাড় ও হাড়িয়াকোনা পাহাড় অন্যতম।
পর্যটকদের থাকার জন্য গজনী এলাকায় বনরাণী নামে একটি রিসোর্ট রয়েছে। এছাড়া মধুটিলা ইকোপার্কে রয়েছে মহুয়া রেস্ট হাউজ। তবে সেখানে বর্তমানে রাতযাপনের সুযোগ নেই। শেরপুর শহরের বিভিন্ন আবাসিক হোটেলেও অবস্থান করে পর্যটকরা সহজেই পাহাড়ি এলাকা ঘুরে দেখতে পারেন।
ময়মনসিংহ বনবিভাগের মধুটিলা ফরেস্ট রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. দেওয়ান আলী বলেন, “শেরপুরের গারো পাহাড়ে রয়েছে মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক পরিবেশ। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে এর সৌন্দর্য আরও বেড়ে যায়। প্রকৃতিপ্রেমীরা এখানে এসে আনন্দ উপভোগ করেন এবং কর্মব্যস্ত জীবনের ক্লান্তি ভুলে যান।”
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, গারো পাহাড়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে ঘিরে পর্যটন অবকাঠামোর আরও উন্নয়ন করা হলে এটি দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হতে পারে।
এসআর