গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গীতে জমি-সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে সংখ্যালঘু হিন্দু ধর্মাবলম্বী একটি পরিবারের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও মারধরের ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত টঙ্গী পশ্চিম থানা তাঁতীদলের সাধারণ সম্পাদক মনোয়ার হোসেন খোকনসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একই ঘটনায় দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অভিযোগে মনোয়ার হোসেন খোকনকে সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।
জানা গেছে, সোমবার (০৬ জুলাই) রাতে টঙ্গীর দাঁড়াইল এলাকায় নির্মোহন মণ্ডলের বাড়িতে এ হামলার ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে ৩০ থেকে ৪০ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বাড়িটিতে হামলা চালায়। হামলাকারীরা লোহা কাটার মেশিন দিয়ে বাড়ির প্রধান ফটক কেটে ভেতরে প্রবেশ করে ব্যাপক ভাঙচুর চালায় এবং পরিবারের সদস্যদের মারধর করে।
হামলায় নির্মোহন মণ্ডল, তার স্ত্রী ও ছেলেসহ অন্তত ১০ জন আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। আহতদের কয়েকজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হলেও অন্যরা এখনও চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগী নির্মোহন মণ্ডল দাবি করেন, তাদের পৈতৃক সম্পত্তির একটি অংশ জাল দলিলের মাধ্যমে দখলের চেষ্টা করা হচ্ছিল। এ বিষয়ে আদালতে একটি মামলা চলমান রয়েছে। মামলা দায়েরের পর থেকেই বিভিন্ন সময়ে তা তুলে নেওয়ার জন্য তাদের হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। আদালতে বিচারাধীন ওই বিরোধকে কেন্দ্র করেই পরিকল্পিতভাবে তাদের বাড়িতে হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তার ভাষ্য, হামলাকারীরা শুধু বাড়িঘর ভাঙচুরই করেনি, পরিবারের নারী সদস্যদেরও মারধর করেছে। হামলার সময় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রাণভয়ে অনেকেই ঘরের বাইরে বের হতে পারেননি।
ঘটনার পরপরই টঙ্গী পশ্চিম থানা পুলিশ বিশেষ অভিযান চালিয়ে প্রধান অভিযুক্ত মনোয়ার হোসেন খোকন, তার ছেলে আশরাফুল ইসলাম অন্তর এবং হোসেন বাদশাকে গ্রেপ্তার করে। মঙ্গলবার (০৭ জুলাই) বিকেলে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আরিফুর রহমান বলেন, ঘটনার পরপরই অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এদিকে, হামলার ঘটনায় সাংগঠনিক ব্যবস্থাও নিয়েছে টঙ্গী পশ্চিম থানা তাঁতীদল। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সংগঠনের শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে মনোয়ার হোসেন খোকনকে সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, গ্রেপ্তার হওয়া তিনজন ছাড়াও হামলায় আরও অনেকেই অংশ নিয়েছেন। তাদের সবাইকে শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা না হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।
টিকে/আরএন