টানা ভারী বৃষ্টিপাতে পাহাড় ধসে আরও দুইজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। কক্সবাজার শহরের কাছাকাছি দরিয়ানগর ও উখিয়া উপজেলার হলদিয়াপালং ইউনিয়নে পৃথক ঘটনায় এক নারী ও এক দিনমজুরের মৃত্যু হয়। এ নিয়ে গত দুই দিনে জেলায় পাহাড় ধসে নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২ জনে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বেলা ১টার দিকে শহরতলির দরিয়ানগর এলাকায় পাহাড় ধসে নাসিমা আক্তার (২৭) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়। ওই ঘটনায় তাঁর স্বামী ও সন্তানকে জীবিত উদ্ধার করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। উদ্ধার হওয়া নাসিমার স্বামী জসিম উদ্দিন (৪০) ও তাঁর এক সন্তান গুরুতর আহত হয়েছেন।
কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়নের দরিয়ানগর বড়ছড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
অপরদিকে, উখিয়ার হলদিয়াপালং ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের জামবাগান এলাকায় ঘরের দেয়াল ধসে চাপা পড়ে দিনমজুর মোহাম্মদ মালেক (৪০) মারা যান।
কক্সবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাহমিনা আক্তার এবং হলদিয়াপালং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইমরুল কায়েস চৌধুরী পৃথকভাবে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
কক্সবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাহমিনা আক্তার বলেন, টানা বৃষ্টিতে পাহাড় ধসে একটি বসতঘর চাপা পড়ে। এতে নাসিমা আক্তার, তাঁর স্বামী ও সন্তান আটকা পড়েন। খবর পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা উদ্ধার অভিযান চালিয়ে তিনজনকে উদ্ধার করে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক নাসিমা আক্তারকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত দুজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ইউএনও বলেন, ভারী বৃষ্টির কারণে ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকায় বসবাসকারীদের আগেই নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে সতর্ক করা হয়েছিল। কিন্তু অনেকেই সেই নির্দেশনা মানেননি।
এদিকে মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিকেল ৩টার দিকে উখিয়া উপজেলার হলদিয়াপালং ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের জামবাগান এলাকায় মোহাম্মদ এখলাসের বাড়িতে দেয়াল ধসে মোহাম্মদ মালেক (৪০) নামের এক দিনমজুরের মৃত্যু হয়। তিনি ওই এলাকার ছৈয়দুর রহমানের ছেলে। তাঁর নিজ বাড়ি পার্শ্ববর্তী পশ্চিম হলদিয়া গ্রামে হলেও জামবাগান এলাকায় পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন।
হলদিয়াপালং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইমরুল কায়েস চৌধুরী জানান, ঘটনার সময় নিহত ব্যক্তি দুপুরের খাবার খেতে বসেছিলেন। এ সময় অতিবৃষ্টির কারণে ঘরের মাটির দেয়াল ধসে তিনি চাপা পড়েন। খবর পেয়ে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে বিকেল ৫টার দিকে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় আর কেউ আহত হননি।
ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, পরিবারটি অত্যন্ত দরিদ্র। তাদের আয়-রোজগারের তেমন সুযোগ-সুবিধা ছিল না। দিনমজুরি করে সংসার চালাতেন মালেক।
উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুজিবুর রহমান বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এসইউ/আরএন