বরগুনার তালতলী উপজেলার শুভসন্ধ্যা সমুদ্র সৈকতে গোসল করতে নেমে সাগরের প্রবল ঢেউয়ের কবলে পড়ে মো. আসাদুল (১৭) নামে এক দাখিল পরীক্ষার্থী নিখোঁজ হয়েছেন।
মঙ্গলবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
নিখোঁজ আসাদুল আমতলী উপজেলার মানিকঝুড়ি গ্রামের সৌদি প্রবাসী মুছা হাওলাদারের ছেলে। তিনি মানিকঝুড়ি মোহাম্মদপুর দাখিল মাদ্রাসা থেকে চলতি বছর দাখিল পরীক্ষা দিয়েছেন। পরিবারের একমাত্র সন্তান আসাদুল মামাতো বোনের শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে এসে এ দুর্ঘটনার শিকার হন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার দুপুরে আসাদুল তার বন্ধু জাকারিয়া, আতাউল্লাহ, সাগর এবং দুলাভাই শাওন তালুকদারকে নিয়ে শুভসন্ধ্যা সমুদ্র সৈকতে বেড়াতে যান। একপর্যায়ে পাঁচজন একসঙ্গে সাগরে গোসল ও সাঁতার কাটতে নামলে হঠাৎ প্রবল ঢেউয়ের কবলে পড়ে সবাই পানিতে তলিয়ে যান। স্থানীয়দের তাৎক্ষণিক উদ্ধার অভিযানে চারজনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও আসাদুল নিখোঁজ হন।
খবর পেয়ে তালতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও কোস্ট গার্ডের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। কয়েক ঘণ্টাব্যাপী তল্লাশি চালিয়েও এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত আসাদুলের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
উদ্ধার হওয়া চারজনকে তালতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তারা সুস্থ রয়েছেন।
উদ্ধার হওয়া সাগর বলেন, “আমরা পাঁচজন একসঙ্গে সাগরে গোসল করতে নেমেছিলাম। হঠাৎ একটি বড় ঢেউ এসে আমাদের ভাসিয়ে নিয়ে যায়। স্থানীয়দের সহায়তায় আমরা চারজন উদ্ধার হলেও আসাদুলকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।”
তালতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইদুল ইসলাম বলেন, “নিখোঁজ আসাদুলকে উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।”
তালতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, “স্থানীয়দের সহায়তায় চারজনকে জীবিত উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। নিখোঁজ আসাদুলকে উদ্ধারে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, কোস্ট গার্ড ও স্থানীয়রা যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন।”
এ ঘটনায় নিখোঁজ শিক্ষার্থীর পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোক ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। দ্রুত আসাদুলকে উদ্ধারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
এইচএম/এসআর